হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮২ শতাংশই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি
Published : ১১:০৯, ১৯ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। এমনকি জীবনের প্রথম ছয় মাসেও অনেক শিশু পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি বছরের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি ৩৫৪ শিশুকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। গবেষণা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান।
গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। হামে আক্রান্ত ৩৮ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গ বুকের দুধ পায়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।
এ ছাড়া হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। তাদের মধ্যে ১২ শতাংশ ছিল তীব্র অপুষ্টির শিকার এবং ৫৩ শতাংশের ছিল মাঝারি মাত্রার অপুষ্টি।
টিকা নেওয়ার তথ্য বিশ্লেষণেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। নিয়মিত টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি—এমন ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে টিকার বয়স হওয়ার পরও টিকা না নেওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের শরীরেও হাম শনাক্ত হয়েছে।
তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নির্দিষ্ট সন্দেহভাজন রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতেই এসব হার পাওয়া গেছে। তাই পূর্ণ দুই ডোজ টিকা নেওয়া সব শিশুর ৭৬ শতাংশ হামে আক্রান্ত হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই। টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমণের পেছনে অ্যান্টিবডি কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
গবেষণায় আক্রান্ত শিশুদের শরীরে শনাক্ত সব ভাইরাসই বি৩ উপশাখার বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে শনাক্ত বি৩ ভাইরাসের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। পাশাপাশি ভাইরাসের এইচ (H) প্রোটিনের এপিটোপ অঞ্চলে চারটি পরিবর্তন বা মিউটেশন শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা।
গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী।



































