মহাসড়কের পাশে অব্যবহৃত ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ সরকারের
Published : ১২:৪২, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টারকে আধুনিকায়ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার একটি সমন্বিত অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কেন্দ্রগুলো চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হচ্ছে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ফাঁকা জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে এগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কেন্দ্রেই জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করা হবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুততম সময়ে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ের গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে এগুলো তৈরি হলেও জনবল ও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এগুলো বন্ধ বা অব্যবহৃত ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টারটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি মাত্র ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে চালু করা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলে এই কেন্দ্রগুলো অবস্থিত। মূল পরিকল্পনায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের কথা থাকলেও তা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার এবার পূর্ণাঙ্গ জনবল ও লজিস্টিকস নিশ্চিত করেই এগুলো চালু করতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তিনি আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি টেকসই অংশে পরিণত হবে।
সূত্র: বাসস



































