৯ দিন পর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত ফিরলেন দুই তরুণ
Published : ১০:৪০, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালের রসুয়ায় ভয়াবহ হড়পা বানে ধসে পড়া ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন দুই তরুণ। তারা হলেন মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ (৩০) ও মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহারজন। প্রায় ১৭০ মিটার গভীরে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকার পর তাদের উদ্ধারকে স্বজনরা ‘অলৌকিক’ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা হিমবাহ ধসের পানিতে ভোটেকোশি ও ত্রিশূলি নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে এবং ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ কাদা-পাথরে বন্ধ হয়ে যায়।
সঞ্জয় শাহ জানান, সহকর্মীদের নিরাপদে বের করে দিতে গিয়ে তিনি নিজেই সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন। অন্ধকারে নিজেকে শান্ত রাখতে তিনি মন্ত্র ও জপ করতে থাকেন। পাশ থেকে অন্যদের ক্ষীণ চিৎকার শুনে তারা একে অপরকে সাহস জোগাতেন। উদ্ধারের পর প্রথম আলো দেখে তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, ‘আজ কী বার?’
অন্যদিকে, রুটিন মেরামতের কাজে ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে গিয়েছিলেন কবির মহারজন। ভূগর্ভে যাওয়ার আগে স্ত্রী হীরা শোভাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, সেখানে নেটওয়ার্ক থাকবে না। এরপর টানা ৯ দিন স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন তিনি। স্বামীকে জীবিত ফিরে পাওয়ার পর তিনি বলেন, কবির যেন দ্বিতীয় জীবন পেয়েছেন।
প্রায় ছয় দিন ধরে উদ্ধারকারীরা ১৫ থেকে ২০ মিটার পলি ও ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরের অংশে পৌঁছান। সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর যৌথ দল তাদের উদ্ধার করে। একই স্থান থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুইজনকে হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সঞ্জয় শঙ্কামুক্ত হলেও কবিরের অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার বিকেলে সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর আর কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় আপাতত উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ এই হড়পা বানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৭ জন নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

































