‘আশি-নব্বই দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকিগুলো

‘আশি-নব্বই দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকিগুলো ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৩৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে চ্যাটজিপিটির ‘আশির দশকের ছবি’ বা এইটিজ ফটো ট্রেন্ড। ব্যবহারকারীরা তাঁদের নিজেদের ছবি চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করে তা ১৯৮০-এর দশকের পুরোনো ফিল্মের দানাদার আবহ, উষ্ণ স্টুডিও আলো, বড় চুল ও সেই আমলের পোশাকের আদলে রূপান্তর করছেন। বিনোদনমূলক এই ট্রেন্ডটি বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করলেও এতে অংশ নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরিবেশগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

ছবির সঙ্গে কী ধরনের তথ্য যায়? একটি ছবির শুধু মুখাবয়বই নয়, বরং এর ফাইলের সঙ্গে যুক্ত মেটাডেটা (যেমন—তোলার তারিখ, ব্যবহৃত ডিভাইস এবং কিছু ক্ষেত্রে লোকেশন বা অবস্থানের তথ্য) চলে যেতে পারে। এছাড়া ছবির পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বাড়ির নম্বর, রাস্তার নাম, গাড়ির নম্বরপ্লেট বা কর্মস্থলের মতো সংবেদনশীল তথ্যও প্রকাশ পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ওপেনএআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটিতে ছবি আপলোড করলে তা কথোপকথনের অংশ হিসেবে প্রক্রিয়াজাত হয়। ভোক্তা পর্যায়ের অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সেটিংস অনুযায়ী এই ডেটা মডেল উন্নয়নে ব্যবহার করা হতে পারে, যদিও প্রতিটি আপলোড করা ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয় না।

ঝুঁকি কমানোর উপায় সাধারণ সেলফি বা ছবি আপলোড করার বিষয়টি বড় কোনো ঝুঁকি তৈরি না করলেও, এর মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষিত একটি ছবির কপি প্ল্যাটফর্মে চলে যায়। গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে:

চ্যাটজিপিটির Settings > Data Controls থেকে ‘Improve the model for everyone’ অপশনটি বন্ধ করে দেওয়া।

মডেল প্রশিক্ষণে ডেটা ব্যবহার রোধ করতে Temporary Chat ফিচার ব্যবহার করা (যা ৩০ দিনের মধ্যে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়)।

পরিচয়পত্র, ব্যক্তিগত নথি বা কোনো সংবেদনশীল ও অন্তরঙ্গ ছবি আপলোড করা থেকে বিরত থাকা।

অনুমতি ছাড়া অন্য কারও এবং বিশেষ করে শিশুদের ছবি আপলোড না করা।

ছবি আপলোড করার আগে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড ক্রপ করে নেওয়া কিংবা বাড়ির নম্বর ও গাড়ির প্লেট ঝাপসা (ব্লার) করে দেওয়া।

পরিবেশের ওপর প্রভাব এআই দিয়ে ছবি তৈরির ক্ষেত্রে শুধু গোপনীয়তা নয়, এর পেছনে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে আসছে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি এবং ‘হাগিং ফেস’-এর গবেষণা অনুযায়ী, একটি এআই ছবি তৈরিতে প্রসেসভেদে আনুমানিক ০.০১ থেকে ০.২৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। একজন ব্যক্তির জন্য এটি সামান্য মনে হলেও লাখ লাখ মানুষ যখন একই ট্রেন্ডে অংশ নিয়ে অসংখ্য ছবি তৈরি করেন, তখন তা শক্তির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। তাই অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় সংস্করণ তৈরি না করে দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করাই শ্রেয়।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement