প্রেমে অতিরিক্ত টান ও অস্থিরতা?

প্রেমে অতিরিক্ত টান ও অস্থিরতা? ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:০৭, ১২ আগস্ট ২০২৬

কাউকে নিয়ে তীব্র আকর্ষণ, কৌতূহল ও মানসিক ব্যস্ততাকে বলা হয় লিমারেন্স (Limerence)। প্রেমের শুরুর দিকে অনেকের মধ্যেই এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তখন মনে হয়, পছন্দের মানুষটিই যেন জীবনের সবকিছুর কেন্দ্র।

এই সময়ে মস্তিষ্কে ডোপামিনের কার্যকলাপ বাড়তে পারে। ফলে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে বারবার ভাবা, তাঁর কাছ থেকে বার্তা পাওয়ার অপেক্ষা করা কিংবা তাঁর আচরণের ছোটখাটো বিষয় নিয়েও অতিরিক্ত আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

তবে আকর্ষণ বা আবেগ স্বাভাবিক হলেও তা যেন নিজের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

নিজেকে সামলাবেন যেভাবে

১. অনুভূতিকে স্বীকার করুন, কিন্তু প্রতিটি তাগিদ মেনে চলবেন না

বারবার মেসেজ দিতে বা নিজের অনুভূতি জানাতে ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি আবেগের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই। নিজের সিদ্ধান্ত ও আচরণের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার চেষ্টা করুন।

২. দৈনন্দিন রুটিন ঠিক রাখুন

কাজ, পড়াশোনা, ব্যায়াম, ঘুম, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—কোনোটিই যেন বাদ না পড়ে। সম্পর্কের বাইরেও নিজের একটি স্বাভাবিক জীবন থাকা জরুরি।

৩. মনোযোগ অন্যদিকে ফেরান

যেসব কাজে মনোযোগ প্রয়োজন, সেগুলোতে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। বই পড়া, লেখালেখি, রান্না, নতুন কিছু শেখা কিংবা শরীরচর্চা—এ ধরনের কাজ মানসিক ব্যস্ততা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

৪. কল্পনা ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য করুন

নিজেকে প্রশ্ন করুন—‘আমি কি মানুষটিকে সত্যিই যতটা চিনি, নাকি তাঁর সম্পর্কে নিজের তৈরি একটি ধারণাকেই বেশি ভালোবাসছি?’

কারও প্রতি তীব্র আকর্ষণ তৈরি হলেই তাকে সম্পূর্ণভাবে চেনা হয়ে যায় না।

৫. অনলাইন আচরণে সীমা রাখুন

বারবার অনলাইন স্ট্যাটাস দেখা, রিপ্লাই না পেলে অস্থির হয়ে পড়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত নজর রাখা মানসিক চাপ আরও বাড়াতে পারে। প্রয়োজনে এসব অভ্যাসে সীমা নির্ধারণ করুন।

৬. সম্পর্ককে সময় দিন

বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও ভালোবাসা একদিনে তৈরি হয় না। শুরুতেই সম্পর্কের সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করলে উল্টো মানসিক চাপ বাড়তে পারে।

তীব্র অনুভূতি মানেই গভীর সম্পর্ক নয়

কাউকে নিয়ে তীব্র অনুভূতি থাকা মানেই যে সেটি গভীর সম্পর্ক, তা নয়। আবার তীব্র আকর্ষণ থাকলেই সেটিকে অস্বাস্থ্যকর বলাও ঠিক নয়।

একটি সুস্থ সম্পর্ক আপনার জীবনে আনন্দ ও ইতিবাচকতা যোগ করবে। কিন্তু সেই সম্পর্ক যদি আপনার কাজ, পড়াশোনা, ঘুম, আত্মসম্মান বা দৈনন্দিন কার্যক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কখন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলবেন?

যদি—

  • কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়;
  • খাওয়া বা ঘুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়;
  • অন্য ব্যক্তির প্রতিক্রিয়ার ওপর আপনার মানসিক অবস্থা পুরোপুরি নির্ভর করতে থাকে;
  • উদ্বেগ এতটাই বেড়ে যায় যে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে;

তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উপকারী হতে পারে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement