চীন বাংলাদেশের ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হয়ে থাকবে : হুমায়ুন কবির

চীন বাংলাদেশের ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হয়ে থাকবে : হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ছবি : পিএমও

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:১২, ২৬ জুন ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হিসেবে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের শেষ দিনে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় চীন দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে উন্নয়ন-পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে চীন পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট শি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও উন্নয়ন ভাবনারও প্রশংসা করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্রিকস (বিআরআইসিএস), সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) নিয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে বেইজিং।

এদিকে, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, পানি সম্পদ ও নদী ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

হুমায়ুন কবির জানান, সফরকালে চীনের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক থেকে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের পথ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রেয়াতি ঋণ ও অনুদান নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন কমে এলেও চীন বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সফরের মূল্যায়ন করে হুমায়ুন কবির বলেন, এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক সফর নয়, বরং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক পরিসরে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement