রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় যারা
Published : ১০:২৫, ৯ আগস্ট ২০২৬
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ রোববার জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে।
শনিবার রাতে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জোটের শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তিকেও প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন জামায়াতের নেতারা। সেখানে শরিকদের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদে জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে।
জামায়াত ও জোটের নেতারা মনে করছেন, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমান সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নির্বাচনের ফল অনেকটাই নির্ধারিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পাওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এরপরও গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জোট শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
দলটির নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও গতিশীল করার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক নজির তৈরি করতে চায় জামায়াত।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার নজির রয়েছে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। তিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন।
এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।































