ঢাকা কি আবার এক সিটি করপোরেশন হবে?
Published : ১৭:৩৩, ১৬ আগস্ট ২০২৬
ব্যয় সংকোচন, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে আবার একীভূত করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, ঢাকাকে এখনই একীভূত করা হবে, নাকি স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কোন কাঠামো দলীয় প্রার্থীদের জন্য বেশি সুবিধাজনক হবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ভেঙে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভাগ করা হয়। প্রশাসনিক গতিশীলতা ও নাগরিক সেবা বাড়ানোর কথা বলা হলেও তখন থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে পুনরায় একীভূত করার সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাবে একজন মেয়রের অধীনে একাধিক সিটি কাউন্সিল গঠনের ধারণা তুলে ধরা হয়।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দুটি আলাদা করপোরেশনের জন্য পৃথক জনবল, যানবাহন ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনা করতে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি একই শহরের জন্য দুই ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো থাকায় সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মতে, নগরবাসী বর্তমান দুই সিটি করপোরেশন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই একীভূত করার আগে জনগণের বাস্তব সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা উচিত।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। দুটি করপোরেশনের মোট বাজেট ৮ হাজার ৫৩২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
ফলে প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, নাগরিক সেবা আরও কার্যকর করা এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ঢাকাকে একীভূত করার প্রস্তাবটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত ঢাকা একক সিটি করপোরেশনের অধীনে যাবে, নাকি বর্তমান দুই করপোরেশন ব্যবস্থাই বহাল থাকবে—তা নির্ভর করবে সরকারের প্রশাসনিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের ওপর।

































