রাজধানীতে ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার পিস্তল-গুলি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক
Published : ১৮:১৪, ১৬ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি গুলি, ওয়াকিটকি, পুলিশের লোগোযুক্ত হাতকড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পোশাক, ভুয়া নম্বর প্লেটসহ ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়িও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫), পাভেল সর্দার (৩৩), সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৪), ইমরান হোসেন ভূঁইয়া (২৮), নুরুল ইসলাম (৩৩) ও মো. ইসমাইল (২৮)। পুলিশ জানিয়েছে, পাভেল সর্দার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার এবং রাব্বি আলম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সৈনিক।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি এসব তথ্য জানায়।
পুলিশ জানায়, ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন দূরানী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে একটি ডাকাত দল ডাকাতির পরিকল্পনা করতে সমবেত হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। তারা বিভিন্ন বাহিনীর নাম ও পদবি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক, ওয়াকিটকি এবং দেশি-বিদেশি অস্ত্রের মাধ্যমে ডাকাতি ও দস্যুতা করে আসছিল বলে পুলিশের দাবি।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগ বিভাগের সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তৈয়ব আলী সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাভেল সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাভেলের কাছ থেকে একটি কিরিচ, দুটি মুঠোফোন, র্যাবের লোগোযুক্ত একটি পরিচয়পত্র রাখার খাপ, সেনাবাহিনীর দুটি ফিল্ড ক্যাপ ও একটি কালো লেজার লাইট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তৈয়ব ও পাভেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর এলাকা থেকে সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান হোসেন, নুরুল ইসলাম ও মো. ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিমানবন্দর থানার সেন্টার পয়েন্ট শপিংমলের পার্কিং এলাকা থেকে একটি কালো ওয়াকিটকি সেট, পুলিশের লোগোযুক্ত একটি হাতকড়া, দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, র্যাব লেখা তিনটি পোশাক, ডিবি লেখা একটি পোশাক, দুটি প্রতিফলক পোশাক, বিভিন্ন রঙের প্রতিফলক স্টিকার, একটি কালো পিস্তলের খাপ, একটি খেলনা পিস্তল ও তিনটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন। পরে ইমরান হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী গ্রামে তাঁর বোনের বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও ছয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া তৈয়ব আলী সর্দারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তাঁর মালিকানাধীন একটি ব্যক্তিগত গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপি আরও জানায়, তৈয়ব আলী সর্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ ৪৫টি মামলা এবং পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী ও খিলক্ষেত এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায়ও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে এবং রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


































