কুকুরকে গোসল করানো নিয়ে বিরোধ, ১০ বছর পর তিন খুনের মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
Published : ১৮:১০, ১৬ আগস্ট ২০২৬
নোয়াখালীর মাইজদী শহরে কুকুরকে পুকুরে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তিন বন্ধুকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১০ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে মামলার তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রোববার নোয়াখালীর বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি মো. বরকত উল্যাহ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) ও মো. সৌরভ (২৭)। তাঁরা সবাই পলাতক। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফিরোজ মাহমুদ (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ (৪৫)। তাঁদের মধ্যে ফিরোজ মাহমুদ কারাগারে রয়েছেন। অপর দুজন পলাতক। প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার অপর দুই আসামি ফয়সাল মাহমুদ রাব্বী ও মো. মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরে মাইজদী বাজার এলাকায় নোয়াখালী সরকারি পুরোনো কলেজসংলগ্ন একটি পুকুরে কুকুরকে গোসল করান মো. সৌরভ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় সালিস হওয়ার কথা ছিল।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনোয়ার হোসেনের তিন বন্ধু নোয়াখালী সরকারি কলেজের ছাত্র ফজলে হুদা (২২), মো. ওয়াসিম (২৪) ও মো. ইয়াছিন (২৩) পুরোনো ক্যাম্পাসের পূর্ব পাশের ফটকে যান।
সেখানে সৌরভের পক্ষের লোকজন তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই ফজলে হুদা নিহত হন। গুরুতর আহত ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরাও মারা যান।
নিহত ফজলে হুদার মা কামরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. নুরে আলম ২০১৭ সালের ৩১ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এক দশক পর মামলাটির রায় ঘোষণা হলো।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত ফজলে হুদার বড় ভাই আরিফুল ইসলাম। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

































