এআইয়ের উত্থানে সাইবার নিরাপত্তায় বাড়ছে ভুয়া সতর্কবার্তা ও হামলার ঝুঁকি

এআইয়ের উত্থানে সাইবার নিরাপত্তায় বাড়ছে ভুয়া সতর্কবার্তা ও হামলার ঝুঁকি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:১৮, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা খাতে বাড়ছে ঝুঁকি। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এন-এবলের নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, এআইয়ের বিস্তারের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থায় ভুয়া ও অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা বাড়ছে, পাশাপাশি এআই-নির্ভর সাইবার হামলার ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করছে।

‘দ্য এআই ফগ রিপোর্ট: হোয়েন দ্য সিগন্যাল বিকামস দ্য নয়েজ’ শীর্ষক গবেষণায় ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের যুগে ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও পেশাজীবীদের মধ্যে ৫৯৫ জনকে নিয়ে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, নিরাপত্তা শিল্প বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৮৬.১ শতাংশ জানিয়েছে, গত এক বছরে তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ভুয়া ও অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪.২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে সতর্কবার্তা বৃদ্ধির হার ৫০ শতাংশেরও বেশি।

সতর্কবার্তা বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উত্তরদাতাদের ৪০.২ শতাংশ শনাক্তকরণ টুলের সংখ্যা বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। এআইয়ের সহায়তায় দ্রুততর সাইবার হামলাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ২৬.২ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০.১ শতাংশ উত্তরদাতা একাধিক কারণের সম্মিলিত প্রভাবের কথা জানিয়েছেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪.৫ শতাংশ জানিয়েছেন, গত এক বছরে তারা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত একাধিক সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন।

এন-এবলের গবেষণায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান নিরাপত্তা প্রযুক্তির ওপর একের পর এক এআই-ভিত্তিক স্তর যুক্ত করলেই প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতো কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না। এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থার অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিরাপত্তাকর্মীদের মনোযোগ বাড়ানোই এআই-নির্ভর সমাধানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

জরিপে অংশ নেওয়া ৫৬ শতাংশেরও বেশি উত্তরদাতা মনে করেন, সাইবার হামলা শনাক্ত করা থেকে শুরু করে তা প্রতিরোধ করা পর্যন্ত সময় কমিয়ে আনাই এআইয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য। তাদের মতামতে, বিপুল পরিমাণ তথ্যের চেয়ে কোন তথ্যটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা অধিক জরুরি। এতে বোঝা যায়, সতর্কবার্তার সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে তথ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করাই এখন সাইবার নিরাপত্তা খাতের বড় চ্যালেঞ্জ।

সাইবার নিরাপত্তায় এআইয়ের প্রধান লক্ষ্য কী হওয়া উচিত, এমন প্রশ্নে ৩৭.৮ শতাংশ উত্তরদাতা হুমকির বিস্তৃত শনাক্তকরণ এবং নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন—দুটিকেই সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন। অন্যদিকে, ৩২.৬ শতাংশ গুরুত্ব দিয়েছেন সাইবার হুমকির বিস্তৃত শনাক্তকরণে। আর ২৯.৬ শতাংশ উত্তরদাতা ভুয়া ও অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা কমিয়ে নিশ্চিত ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যালার্ট পাওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement