জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি : পিএমও

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৫১, ৮ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে তৈরি হওয়া সংকট থেকে দেশ ও জনগণকে রক্ষায় বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা এখনো সক্রিয়। একটি চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তবে ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

তিনি বলেন, সরকার অস্বীকার করছে না যে দেশের মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে অতীতে নেওয়া অপরিকল্পিত উদ্যোগের খেসারত এখন দেশ, জনগণ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র, দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং দুর্বল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছে। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ কর্মী নিয়োগ

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সারাদেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকর্মী জনগণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতন করবেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

টমাস আলভা এডিসনের একটি উক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চিকিৎসকরা শুধু ওষুধ দেবেন না; বরং শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করবেন। বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যনীতি এ ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিতে বিশ্বাস করে। অর্থাৎ রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই সতর্ক হওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকদের ৫ হাজার পদে নিয়োগসহ একাধিক প্রস্তাব

চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য খাত ও চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করার জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে—

  • বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে দ্রুত ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ;
  • সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছরে উন্নীত করা;
  • চিকিৎসকদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা;
  • চিকিৎসক ও রোগীর নিরাপত্তায় স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন;
  • উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের বিশেষ ভাতা ও প্রণোদনা দেওয়া;
  • বেসরকারি খাতে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রণয়ন;
  • বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।

তারেক রহমান বলেন, এসব প্রস্তাব অযৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যে শিশু হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। অন্য প্রস্তাবগুলোও ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।

স্বাস্থ্য বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিক করতে সরকার স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না উল্লেখ করে চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক হতে হবে’

তারেক রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। এরপরও অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করে।

জনগণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যেন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না হয়—এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ড্যাবের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement