আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল উন্নত বাংলাদেশ গড়া’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
Published : ১৬:৪১, ৮ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি উন্নত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে কেউ সরাসরি অংশ নিয়েছেন, আবার কারও আপনজন এতে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশের মানুষ আজ একটি মুক্ত পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পেয়েছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এসব ত্যাগের পেছনে মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ আরও ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
তারেক রহমান বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—সবার আত্মত্যাগের পেছনে বাংলাদেশকে আরও ভালো করার প্রত্যাশা ছিল।
রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বাস্তবতার আলোকে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তাঁর মতে, ‘আমরা কী পেলাম’—এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং দেশকে কী দিতে পেরেছি, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১০ পরিবার পেল চাকরির নিয়োগপত্র
অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
নিয়োগপত্র পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রানী।
এ ছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী আরজু আক্তারও চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

































