হামের চিকিৎসায় ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, ৬১% হারিয়েছে সঞ্চয়
Published : ১১:৩৬, ৪ আগস্ট ২০২৬
দেশে হামের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ পরিবারকে ঋণ নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ছয়টির বেশি (প্রায় ৬১ শতাংশ) চিকিৎসার খরচ বহন করতে নিজেদের সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)-এর যৌথ জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হামের প্রাদুর্ভাবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এ জরিপ পরিচালিত হয়।
জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী রোগীদের ৭৫ শতাংশের বয়স চার বছরের নিচে। ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোগী ১৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগী ৬ শতাংশ।
জরিপ অনুযায়ী, চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রতিটি পরিবারের গড়ে প্রায় ১৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ব্যয় মেটাতে ৪ শতাংশ পরিবার সম্পদ বিক্রি করেছে এবং প্রায় ৩ শতাংশ পরিবার অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।
সব অংশগ্রহণকারী পরিবারই জানিয়েছে, সংকট কাটিয়ে উঠতে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার ওষুধকে সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এছাড়া ৩৩ শতাংশ পরিবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সহায়তা এবং ২২ শতাংশ পরিবার খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত, যাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থান করায় অনেকেই আয় হারিয়েছেন, এমনকি চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে।
রংপুরের হাজেরা খাতুনের ১১ মাস বয়সী মেয়ের হামের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে ৭০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও যাতায়াত, খাবার, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।
জরিপের ভিত্তিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল কবির এম আশরাফ আলম বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, অনেক পরিবারের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি করেছে। তাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তার পাশাপাশি কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশে আইএফআরসির হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, এই মূল্যায়ন দেখিয়েছে যে জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে আইএফআরসি ও অন্যান্য অংশীদারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের হাম টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করছে বিডিআরসিএস। পাশাপাশি এক হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কেন্দ্রে সহায়তা এবং মানুষকে টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করার কাজ করছেন।


































