কোচিং ফির জন্য এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হলো ২১ শিক্ষার্থীকে!

কোচিং ফির জন্য এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হলো ২১ শিক্ষার্থীকে! বিজনেস ডেইলি গ্রাফিক্স

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:০৬, ১৩ আগস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কোচিংয়ের বকেয়া ফি পরিশোধ না করায় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রী।

ঘটনাটি সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার আল বালাগ আদর্শ একাডেমি স্কুলে ঘটেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, সোমবার ৮২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ ছাত্র ও ৬ ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমাদ তার কক্ষে ডেকে নেন। এ সময় তাদের কাছে কোচিংয়ের বকেয়া ফি দাবি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে কোচিং ফি হিসেবে প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা পরিবারের আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে টাকা পরিশোধের জন্য সময় চাইলেও তাদের কয়েকজনকে প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অস্বস্তি ও নার্ভাস অবস্থায় দেখা যায়। পরে বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেন, বকেয়া টাকা পরে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও তার মেয়েকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং গত দুই দিন ধরে স্বাভাবিক আচরণ করছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্য এক অভিভাবক বলেন, কোচিংয়ের টাকা দিতে না পারায় শিক্ষার্থীদের এভাবে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা অগ্রহণযোগ্য। তবে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক অভিভাবক প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে চাইছেন না।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কোচিং কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, আর্থিক বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান না করে শিক্ষার্থীদের কেন এর দায় নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমাদ বলেন, এটি একটি বেসরকারি স্কুল এবং স্কুলের মালিকদের পরামর্শেই শিক্ষার্থীদের কোচিং ফি আদায়ের জন্য তার কক্ষে ডাকা হয়েছিল। কোচিং নিষিদ্ধ—এমন বিষয় স্বীকার করলেও তিনি প্রশ্ন করেন, সিদ্ধিরগঞ্জের কোন স্কুলে কোচিং হয় না।

অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের কোচিং ফি দিতে না পারায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগটি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের মানসিক চাপ বা অপমানের মুখে ফেলা হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কীভাবে ফি নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা বিধিমালা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement