অপ্রতিম হত্যা, পুলিশের বক্তব্যে যে ৩ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি
Published : ১২:২২, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতিমের মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনও। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর তুহিন অপ্রতিমকে সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে নিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপ্রতিমের নিখোঁজের ঘটনায় তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে এবং এ ঘটনায় ফাহাদ ও তার এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আইফোন উদ্ধারে প্রথমে তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ফোনটি না পাওয়ার পর তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে অভিযুক্তরা আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়াই কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিম ও অভিযুক্তদের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ছিল এবং তাদের একসঙ্গে ছবি ও ভিডিওও রয়েছে। ফলে পূর্ববিরোধ, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় কয়েকজন কিশোরকে বিভিন্ন ঘটনায় আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার তথ্য রয়েছে। এ কারণে পুরোনো কোনো বিরোধ থেকে অপ্রতিমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে তুহিনের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের কেউ ফোনটির বিষয়ে জানতেন কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপ্রতিম হত্যার সময় নিয়েও পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে তুহিনের মায়ের বর্ণনায় কিছুটা অসঙ্গতি রয়েছে। পুলিশের দাবি, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দার নির্জন বনে অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে তুহিনের মা জানিয়েছেন, জুমার নামাজের পর বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়া করে তুহিন আবার বাইরে যায় এবং রাতে সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফেরে।
পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।


































