রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ
Published : ১৬:৩৩, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকেই নকশা অনুমোদনের আবেদন গ্রহণ এবং দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।
একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অযৌক্তিকভাবে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।
সোমবার জাতীয় সংসদে কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, এতদিন রাজউকের নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীদের ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে হতো। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ত, অন্যদিকে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমেও বিলম্ব হতো।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নকশা অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে একটি জায়গা থেকেই আবেদন গ্রহণ এবং দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও রাজউকের চেয়ারম্যান এ উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ইকবাল বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম দায়িত্ব।
এ দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো প্রকল্পের ব্যয় বা মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিলে তার যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আগের মতো অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অযথা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও দেওয়া হবে না।
আবাসন সংকট ও স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাট নির্মাণের বিষয়ে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, বিদ্যমান নগর বিধিমালার কিছু জটিলতার কারণে আবাসন খাতের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক ল্যান্ড ডেভেলপার আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়ছেন।
তিনি জানান, বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বিধিমালা ও নগর গৃহায়ন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। গৃহায়ন বিধিমালা না থাকায় ল্যান্ড ডেভেলপারদের প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী সভার আগেই বিধিমালা অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। ইকবাল জানান, নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করা হলেও যেসব ভবনের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়নি, সেগুলোকে নির্দিষ্ট জরিমানা বা শাস্তির আওতায় এনে রাজউকের বিধি অনুযায়ী বৈধ করার বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করাই কমিটির অন্যতম লক্ষ্য। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে কমিটির সদস্যরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ও কমিটির সঙ্গে একমত হয়েছে।
সংসদ সদস্য ইকবাল জানান, কমিটির প্রথম বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


































