জাতীয় গ্রিডে আজ যুক্ত হচ্ছে ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, চার মাসে বাড়তে পারে ৬৭.৫ মিলিয়ন
Published : ১০:১৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাসের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ থেকে আরও প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাঁচটি কূপ থেকে মোট প্রায় ৬৭.৫ মিলিয়ন ঘনফুট/দিন অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিজিএফসিএল কর্মকর্তারা জানান, নতুন কূপ খনন ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপের কাজ এগিয়ে চলছে।
বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই এটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীর কূপটির খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপের কাজ চলছে। এর মধ্যে তিতাস-২৮ উৎপাদনে যাচ্ছে।
তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে লগিংসহ আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ করে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজ আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কূপ থেকেও দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল।
অন্যদিকে তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে। এর লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ভূতাত্ত্বিক জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা রয়েছে। কূপটি সফল হলে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপের খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মিটার। কূপটি সফল হলে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন এবং বাখরাবাদ-১১ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে তিতাস-২৮-এর ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট যোগ হলে পাঁচটি কূপ থেকে মোট প্রায় ৬৭.৫ মিলিয়ন ঘনফুট/দিন অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
এদিকে, তিতাস-৩১ অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কূপটি সফল হলে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন মজুত যুক্ত হতে পারে। তবে এর পরিমাণ নিশ্চিত করতে খননকাজ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই নতুন মজুতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
































