আইসিসিবিতে বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার
Published : ১৭:৫৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশ-বিদেশ ভ্রমণের নানা আয়োজন, পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রদর্শনী এবং বাংলাদেশে পর্যটন বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) ২০২৬।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ পর্যটন মেলা অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে মেলা।
সোমবার রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক ও এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। আইসিসিবির তিনটি হলে প্রায় ৩০০টি বুথে পর্যটন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হবে।
মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি দূতাবাস ও মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। দর্শনার্থীদের জন্য পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফারও থাকবে।
এবারের মেলার বিশেষ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেজ’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেজ’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেজ’। পাশাপাশি থাকবে বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হবে।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, “এটিএফ ২০২৬ দেশি-বিদেশি পর্যটন অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরি, পর্যটন পণ্যের প্রচার এবং বাংলাদেশে পর্যটন বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
প্রধান অতিথি মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলার গুরুত্ব রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটিএফ বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
তিনি জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মেলাটির অনুমোদন দিয়েছে এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মেলায় সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিসহ মেলার বিভিন্ন অংশীদার ও স্পনসর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এবারের এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের ভেন্যু আইসিসিবি রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ ও বহুমুখী ইভেন্ট ভেন্যু হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। আধুনিক স্থাপত্য, সুবিশাল পরিসর, উন্নত অবকাঠামো, পর্যাপ্ত পার্কিং এবং একই কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ধরনের আয়োজনের সুযোগ রয়েছে এখানে।
আইসিসিবিতে বিভিন্ন আকারের একাধিক হল, উন্মুক্ত স্থান, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ ও বিস্তৃত পার্কিং সুবিধা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক মেলা, বাণিজ্যিক প্রদর্শনী, করপোরেট সেমিনার, সম্মেলন, কনসার্ট, পুরস্কার বিতরণী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা ধরনের আয়োজন করা সম্ভব।
ভেন্যুটির বিভিন্ন হলে ভিন্ন ভিন্ন ধারণক্ষমতার আয়োজন করা যায়। হল-১-এ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন, হল-২ ও হল-৩-এ প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন করে, হল-৪-এ প্রায় ৩ হাজার ২০০ জন এবং হল-৫-এ প্রায় ৬০০ জনের আয়োজন করা সম্ভব। আর হল-৬ বা এক্সপো জোনে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বৃহৎ আয়োজনের সক্ষমতা রয়েছে।
আয়োজনের ধরন, সময়, সাজসজ্জা ও অন্যান্য সেবার ওপর ভিত্তি করে হলগুলোর ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণ হিসাবে হল-১, ২ ও ৩-এর ভাড়া প্রায় ৪ লাখ টাকা, হল-৪-এর প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবং হল-৫-এর প্রায় ২ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
আইসিসিবির বড় এক্সপো জোন বৃহৎ কনসার্ট, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বড় করপোরেট অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধাও আয়োজক ও দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে। একই কমপ্লেক্সে খাবার, নামাজ, প্রদর্শনী ও অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীদের জন্য পুরো আয়োজন আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে ওঠে।
এবার সেই বহুমুখী ভেন্যুতেই একত্রিত হচ্ছে দেশ-বিদেশের পর্যটনশিল্পের অংশীজনেরা। ফলে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুধু পর্যটন পণ্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়; একই সঙ্গে এটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, পর্যটন প্রচার এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


































