পদার্থবিজ্ঞানে ২০২৬ নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
Published : ১৭:০৩, ৬ অক্টোবর ২০২৬
২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং জ্যোতিঃপদার্থবৈজ্ঞানিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ বছরের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
১৯৪৪ সালে বেলজিয়ামের টিনেন শহরে জন্ম নেওয়া হালজেন ১৯৬৯ সালে কে ইউ লিউভেন থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের অধ্যাপক এবং আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত।
দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণার অন্যতম পথিকৃৎ হালজেন। ১৯৮৮ সালে তিনি প্রস্তাব দেন, স্বচ্ছ ও গভীর অ্যান্টার্কটিক বরফের মধ্যে সংবেদনশীল আলোকসেন্সর স্থাপন করে নিউট্রিনোর গতিপথ শনাক্ত করা সম্ভব।
নিউট্রিনো হলো বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ অতিপারমাণবিক কণা, যা বিপুল দূরত্ব অতিক্রম করলেও সাধারণ পদার্থের সঙ্গে খুব কমই взаимодейств করে। কোনো নিউট্রিনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হতে পারে। বরফের মধ্যে স্থাপিত সেন্সর সেই আলোর সংকেত শনাক্ত করতে পারে।
হালজেনের এই ধারণার ভিত্তিতেই পরে দক্ষিণ মেরুতে গড়ে ওঠে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য আলোকসংবেদী সেন্সর। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও অত্যন্ত শক্তিশালী উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
নোবেল কমিটির মতে, আইসকিউবের মাধ্যমে শনাক্ত নিউট্রিনো মহাবিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী ও সহিংস মহাজাগতিক পরিবেশ সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে এবং অজানা মহাজাগতিক ঘটনাও অনুসন্ধানের পথ খুলে দিয়েছে।
১৯০১ সাল থেকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এ পুরস্কারের ইতিহাসে বয়সের দিক থেকে সবচেয়ে কম বয়সী বিজয়ী ছিলেন লরেন্স ব্র্যাগ, যিনি ২৫ বছর বয়সে ১৯১৫ সালে নোবেল পান। আর সবচেয়ে বেশি বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী হন আর্থার আসকিন; ২০১৮ সালে ৯৬ বছর বয়সে তিনি পুরস্কারটি পান।































