অস্ট্রেলিয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, সতর্ক বাংলাদেশিরা
Published : ১২:৪২, ১১ আগস্ট ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস ও কাজের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিছু ভুয়া মাইগ্রেশন এজেন্ট ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের ওয়েবসাইটের আদলে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে ভুয়া স্পন্সরশিপ, চাকরির অফার ও ভিজিট ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে। এসব অভিযোগে একাধিক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তারও করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় ঢাকায় অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন জানিয়েছে, ভুয়া মাইগ্রেশন এজেন্টদের প্রতারণা থেকে বাঁচতে ভিসাসংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট অথবা আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া জরুরি।
দক্ষতা ও ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ স্কিলড ভিসা ও নির্দিষ্ট কর্মভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পেশাগত দক্ষতা এবং ইংরেজি ভাষার যোগ্যতার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। কোন ভিসার জন্য কী ধরনের যোগ্যতা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট ভিসার শর্তের ওপর নির্ভর করে।
তাই প্রয়োজনীয় ভাষা পরীক্ষা, দক্ষতা মূল্যায়ন বা অন্যান্য যোগ্যতা ছাড়াই সরাসরি কাজের ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সন্দেহজনক বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কেউ ভিসার নিশ্চয়তা দিতে পারে না
অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রদানের ক্ষমতা দেশটির অভিবাসন বিভাগের। কোনো ব্যক্তি, নিয়োগকর্তা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভিসা নিশ্চিত করতে পারে না। এমনকি আইনজীবী কিংবা নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্টও ভিসা পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারেন না।
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও নিয়োগকর্তাকে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত পূরণ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী পাওয়া না গেলে বিদেশি কর্মী স্পন্সর করার সুযোগ তৈরি হয়।
মাইগ্রেশন এজেন্টের নিবন্ধন যাচাই জরুরি
অস্ট্রেলিয়ায় মাইগ্রেশন পরামর্শ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্টের তথ্য Office of the Migration Agents Registration Authority (OMARA)-এর তালিকা থেকে যাচাই করা যায়।
নিবন্ধিত এজেন্টদের নির্দিষ্ট আচরণবিধি মেনে চলতে হয়। সেবার ধরন ও খরচ সম্পর্কে লিখিত তথ্য বা চুক্তি দেওয়া, যুক্তিসংগত ফি নেওয়া এবং আবেদনের অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে ক্লায়েন্টকে জানানো এর মধ্যে অন্যতম।
যেভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে চক্রগুলো
প্রতারক চক্রগুলো বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- নকল ওয়েবসাইট: অস্ট্রেলিয়া সরকারের ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া সাইট তৈরি করে ভিসা আবেদন বা যাচাইয়ের সুযোগ দেখানো।
- অবাস্তব প্রতিশ্রুতি: অভিজ্ঞতা বা ইংরেজি ভাষার দক্ষতা ছাড়াই চাকরি, দ্রুত স্থায়ী বসবাস কিংবা শতভাগ ভিসার নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি।
- ভুয়া অফার লেটার: অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নাম, লোগো ও প্যাড ব্যবহার করে জাল নিয়োগপত্র তৈরি করে অগ্রিম অর্থ দাবি।
- ভুয়া ফোন নম্বর: ইন্টারনেটভিত্তিক বা বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া থেকে যোগাযোগ করার ভুয়া বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি।
প্রতারণা এড়াতে যা করবেন
ভিসার জন্য অর্থ দেওয়ার আগে এজেন্টের নিবন্ধন নম্বর ও পরিচয় যাচাই করতে হবে। ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানো থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি প্রতিটি লেনদেনের লিখিত রসিদ সংরক্ষণ করা উচিত।
ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের অফিসিয়াল ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট অনুসরণ করা জরুরি। কোনো অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠানের চাকরির অফার পেলে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে গিয়ে নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য ও যোগাযোগের বিবরণ যাচাই করাও প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় ‘শর্টকাট’ নেই
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ভুয়া মাইগ্রেশন এজেন্টদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধু অর্থ দিলেই অস্ট্রেলিয়ার কাজের ভিসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
যোগ্যতা, সঠিক কাগজপত্র এবং বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অস্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। তাই অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার স্বপ্ন পূরণে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর মিথ্যা আশ্বাসে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে তার নিবন্ধন, চাকরির অফার এবং ভিসাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা জরুরি।
সঠিক তথ্য, বৈধ প্রক্রিয়া এবং সচেতনতাই মাইগ্রেশন প্রতারণা থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।



































