মেহেরপুরে উদ্ধার ৯৬ মাইন
Published : ১৩:৫৮, ১১ আগস্ট ২০২৬
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা ৯৬টি মাইন ধ্বংস করেছে যশোর সেনানিবাসের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে মধুগাড়ি গ্রামের মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে চার দফা বিস্ফোরণের মাধ্যমে মাইনগুলো ধ্বংস করা হয়।
এর আগে শনিবার দুপুরে বেতবাড়িয়া গ্রামে নিজের জমিতে মাটি কাটার সময় মাইনগুলোর সন্ধান পান স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান কালু। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গাটি ঘিরে রাখেন।
পরে মাইনগুলো উদ্ধারের জন্য যশোর সেনানিবাস থেকে ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে আসে। দলের নেতৃত্ব দেন মেজর তরিকুল ইসলাম।
সেনাসদস্যরা উদ্ধার করা মাইনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিরাপদ স্থানে নিয়ে ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে পাঁচটি বড় গর্ত খোঁড়া হয়। মাইনগুলো বস্তায় ভরে গর্তের মধ্যে রাখা হয় এবং ওপর থেকে বালু ও মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
পরে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ দেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাসদস্যরা প্রায় ৫০০ মিটার দূরে সরে যান। নির্ধারিত নিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। প্রথম চার দফা বিস্ফোরণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মাটি উড়ে যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ স্থানে ছোটাছুটি শুরু করেন।
বেতবাড়িয়া গ্রামের কৃষক হানা মিয়া, বাহাদুর, মিরন ও লালু জানান, প্রথমে তাঁরা মাটির নিচে পাওয়া বস্তুগুলোকে খালি বাক্স বা সাধারণ কোনো জিনিস মনে করেছিলেন। কিন্তু বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় নির্মাণশ্রমিক মামুন মিয়া জানান, উদ্ধার করা বস্তুগুলো তিনি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখেছিলেন। তখন এগুলো এতটা বিপজ্জনক হতে পারে বলে তাঁর ধারণা ছিল না। এখন এলাকায় আরও কোনো মাইন বা বিস্ফোরক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ধারণা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী এসব মাইন মাটির নিচে পুঁতে রেখে যেতে পারে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোরশেদ জানান, শনিবার মাটি কাটার সময় শ্রমিকেরা প্রথমে ছয়টি ধাতব বস্তু দেখতে পান। সেগুলোর গায়ে ‘পি ডি এফ জি এল ৬৩, লট ৩৭, মাইন ১৯৬৭’ লেখা ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
ওসি বলেন, দুই দিন পর সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল ওই স্থান খুঁড়ে মোট ৯৬টি মাইন উদ্ধার করে। এর মধ্যে ১৭টি ছিল ট্যাংকবিধ্বংসী এবং ৭৯টি মানববিধ্বংসী মাইন। সেনাসদস্যরা নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাইনগুলো সফলভাবে ধ্বংস করেছেন।
এলাকায় আরও কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখতে পেলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওসি।

































