ট্রাম্পের আমলে রেকর্ড ভিসা বাতিল, সংখ্যা ছাড়াল ১ লাখ ৭৫ হাজার

ট্রাম্পের আমলে রেকর্ড ভিসা বাতিল, সংখ্যা ছাড়াল ১ লাখ ৭৫ হাজার ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:২০, ১১ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সময়ে আরও হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর গত বছর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়। এর অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বৈধ ভিসাধারী ব্যক্তিও ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও ভিসার শর্ত মেনে চলছেন কি না এবং তাঁরা দেশটির নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছেন কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

যেসব কারণে বাতিল হয়েছে ভিসা

ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের কথাও উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। কয়েকটি গুরুতর মামলার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে।

এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, অন্য একজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের অভিযোগ এবং আরেকজনের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করতে চাওয়া বাবা-মায়ের ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে। এসব ব্যক্তিকে ‘বার্থ ট্যুরিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলে যাতে দেশটির নাগরিকত্ব পায়, সেই উদ্দেশ্যেই তাঁরা দেশটিতে যেতে চেয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও বাতিল ভিসা

চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের করা মন্তব্যকে ভিসা বাতিলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তাঁদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়।’ ভিসার অপব্যবহার হলে তা বাতিল করতে বিদ্যমান সব ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।

আগের রেকর্ড ছাড়াল ভিসা বাতিলের সংখ্যা

এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সে সময় এটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার পাশাপাশি নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।

তবে সরকারের এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি এবং অতিরিক্ত কঠোর যাচাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে অভিবাসীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত ও হয়রানির আশঙ্কাও বাড়তে পারে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement