বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের গৌরবগাথা, শান্তিরক্ষীদের ত্যাগের স্বীকৃতি চাইলেন শামা ওবায়েদ

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের গৌরবগাথা, শান্তিরক্ষীদের ত্যাগের স্বীকৃতি চাইলেন শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৩৩, ৯ জুন ২০২৬

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান ও আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের সম্মান ও মানবতার কল্যাণে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, অথচ তাদের এই ত্যাগ ও অর্জন সম্পর্কে দেশের মানুষ যথেষ্ট সচেতন নয়।

সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিজাব) আয়োজিত ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সফর ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় তিনি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি স্থানীয় জনগণের গভীর শ্রদ্ধা প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা যে সুনাম অর্জন করেছেন, তা দেশের জন্য এক অসাধারণ সম্মান।

শান্তিরক্ষীদের পরিবারের ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের সদস্যরা অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রিয়জনদের দেশের জন্য দায়িত্ব পালনে পাঠান। অনেক সময় তারা জানেন না, তাদের স্বজন নিরাপদে ফিরে আসবেন কি না।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে রয়েছে পেশাদারিত্ব, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের সমন্বয়। সিয়েরা লিওনের পুনর্গঠন, হাইতিতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুসলিম নারী পুলিশ ইউনিট মোতায়েন এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি জানান, ১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক দিয়ে শুরু হওয়া বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা যাত্রা আজ বিশ্বে অন্যতম সফল মডেলে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশে ৬৩টিরও বেশি মিশনে দুই লাখ ছয় হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ৪ হাজার ২১২ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ উৎসর্গ করেছেন।

সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, জাতিসংঘের এবারের প্রতিপাদ্য ‘ইনভেস্ট ইন পিস’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দক্ষতা, মানবিকতা ও আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তির পথে আশার বার্তা বহন করছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement