ডারউইন টেস্ট তিন দিনে শেষ, নাকি গড়াবে পাঁচ দিনে?
Published : ১৩:০২, ১২ আগস্ট ২০২৬
ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। ম্যাচটি তিন দিনেই শেষ হবে, নাকি পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়াবে—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক ক্রিকেটার হিসেবে পাঁচ দিনই মাঠে থাকার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে একই প্রশ্নের জবাবে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘কে জানে!’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ছয় টেস্ট খেলে পাঁচটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তিন ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হার। ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে অতীত পরিসংখ্যানের কথা মাথায় রেখেও বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। সংবাদ সম্মেলনে কামিন্সের কথায় বাংলাদেশের প্রতি যথেষ্ট সমীহই প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে পড়ে না কবে সহজ টেস্ট খেলেছি। আমি নিশ্চিত তারা শক্তিশালী। তাদের দলে এমন কিছু ক্রিকেটার আছে, যাদের আমরা আগে কখনো দেখিনি। টেস্ট ম্যাচের আগে সব সময়ই কিছু অজানা শঙ্কা কাজ করে।’
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কথাও উল্লেখ করেন কামিন্স। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ বেশ কিছু বড় জয় পেয়েছে এবং দলে প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। তাই ম্যাচে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে নামতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে বাংলাদেশের অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩ বছর। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ।
এ ধরনের সিরিজ নিয়মিত আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন কামিন্স। তাঁর মতে, বছরের এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়া দারুণ ব্যাপার।
অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বলেন, বাংলাদেশে আইসিসির বিভিন্ন ইভেন্টে তাদের বিপক্ষে কয়েকটি ম্যাচ খেললেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিয়মিত খেলা হয় না। তিনি এমন সুযোগ ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত চান।
কামিন্স বলেন, টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম আকর্ষণ হলো বিভিন্ন দেশের বিপক্ষে খেলার সুযোগ। প্রতিটি দলের খেলার ধরন আলাদা হওয়ায় প্রতিবারই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক সাফল্যে বাংলাদেশকে সমীহ
সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আগের তুলনায় বেশ ভালো। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরে ও বাইরে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে হারানোর কৃতিত্বও রয়েছে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে কীভাবে দেখছে অস্ট্রেলিয়া—এমন প্রশ্নের উত্তরে কামিন্স কিছুটা সতর্ক ছিলেন।
তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ পর এ বিষয়ে আরও ভালোভাবে বলা যাবে। তবে আইসিসির কোনো ইভেন্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে গেলে কিছুটা নার্ভাস থাকতে হয়, কারণ দলটিতে কয়েকজন বড় মানের ক্রিকেটার রয়েছে।
ফলে অতীতের পরিসংখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে থাকলেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট সাফল্যকে গুরুত্ব দিয়েই ডারউইন টেস্টে মাঠে নামছে স্বাগতিকরা।
এখন দেখার বিষয়, কামিন্সের সেই ‘কে জানে!’ উত্তরকে সত্যি করে ম্যাচটি দ্রুত শেষ হয়, নাকি বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার লড়াই গড়ায় পঞ্চম দিন পর্যন্ত।


































