মোহাম্মদ মহাসিন পেলেন TOYP 2026 সম্মাননা, স্বীকৃতি পেল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন ও ক্রীড়াঙ্গনে অবদান

মোহাম্মদ মহাসিন পেলেন TOYP 2026 সম্মাননা, স্বীকৃতি পেল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন ও ক্রীড়াঙ্গনে অবদান

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৫৩, ২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্রীড়াক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি, স্বেচ্ছাসেবা এবং সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ Ten Outstanding Young Persons (TOYP) 2026 সম্মাননা অর্জন করেছেন মোহাম্মদ মহাসিন। তিনি বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধিনায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক ক্ষমতায়নে কাজ করে আসছেন।

শৈশবে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে চলাচলের সক্ষমতা হারালেও মহাসিন নিজের সীমাবদ্ধতাকে বাধা হিসেবে দেখেননি। বরং হুইলচেয়ারকে শক্তিতে পরিণত করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরির উদ্যোগ নেন। ২০১০ সাল থেকে তাঁর এই পথচলা শুরু হয়। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে হুইলচেয়ার ক্রিকেটের বিকাশ, খেলোয়াড়দের সংগঠিত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

মহাসিনের কাজের অন্যতম লক্ষ্য হলো, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেবল সহায়তা গ্রহণকারী হিসেবে নয়, বরং প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ, দক্ষ সংগঠক এবং সমাজের সক্রিয় নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। খেলাধুলার মাধ্যমে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, নেতৃত্বের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো ব্যক্তির স্বপ্ন, যোগ্যতা কিংবা সম্ভাবনার অন্তরায় হওয়া উচিত নয়। উপযুক্ত সুযোগ, প্রশিক্ষণ, সহায়ক পরিবেশ এবং সামাজিক স্বীকৃতি পেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

TOYP 2026 সম্মাননা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবা, নৈতিক নেতৃত্ব, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং সমাজ পরিবর্তনে অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। এই অর্জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

মহাসিনের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী তরুণদের স্বপ্ন দেখা, নেতৃত্ব দেওয়া এবং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করার অনুপ্রেরণা। তাঁর প্রত্যাশা, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য খেলাধুলা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে।

মোহাম্মদ মহাসিনের এই সম্মাননা প্রমাণ করে, প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় শারীরিক সক্ষমতায় নয়, বরং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা, দৃঢ়তা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টায়।

 
শেয়ার করুনঃ
Advertisement