বাসযোগ্য নগর গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: ডিএনসিসি প্রশাসক
Published : ২০:৩৬, ১৭ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা, ১৭ আগস্ট ২০২৬: রাজধানী ঢাকাকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
তিনি বলেছেন, নগর উন্নয়নে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ডিএনসিসিকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গুলশানে ডিএনসিসির কার্যালয়ে এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। সাক্ষাতে নগর উন্নয়ন, জনসেবা এবং উভয় পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, “বসুন্ধরা একটি মডেল আবাসিক এলাকা। এবিজি দেশের অন্যতম স্বনামধন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ডিএনসিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার। নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে সব পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর স্বার্থ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এবিজি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নগরকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ সব স্টেকহোল্ডারের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
“একটি বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ নগর উন্নয়নে ডিএনসিসিকে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। একইভাবে জনসেবার স্বার্থে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে,” বলেন তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স
রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির কার্যক্রম তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ডিএনসিসির ১০টি জোনে কঠোর মনিটরিং চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি এডিস মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরকারি অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে ঝটিকা অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কোথাও লার্ভা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে।
বাসাবাড়িতে মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “মানুষের ঘরের ভেতরে ঢুকে সিটি করপোরেশনের পক্ষে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”
সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও ডিএনসিসির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ডিএনসিসির পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত মশার ওষুধ প্রয়োগের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে নগরীতে মশা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর সম্ভাব্য মশার হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।


































