তিতাস কর্মচারীর পাহারায় রাতের আঁধারে যাত্রাবাড়ীতে গ্যাসের অবৈধ লাইন
Published : ১৮:৩২, ২৫ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা: দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সুতিরখালপাড় ও বিবিরবাগিচা এলাকায় ‘২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস’ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাড়িপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে রাতের আঁধারে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক বাড়িতে এসব সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিতাস গ্যাসের কর্মচারী সবুজ হোসেন ও স্থানীয় ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেনকে ঘিরে ওই এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের একটি চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুতিরখালপাড় এলাকায় সংযোগ দেওয়ার কাজের নেতৃত্বে ছিলেন জাহাঙ্গীর, আর বিবিরবাগিচা এলাকায় তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সবুজ—এমন দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গত ১৯ ও ২০ আগস্ট গভীর রাতে বিবিরবাগিচার সবুজ ছায়া স্কুল ও মক্কা বিল্ডিং সংলগ্ন সড়কে শ্রমিকদের দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের কাজ করা হয়। সেখানে তিতাসের কর্মচারী সবুজ হোসেনের উপস্থিতি ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ সময় কয়েকজন সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজ থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুতিরখালপাড় ও বিবিরবাগিচার ১ ও ২ নম্বর সড়কের শতাধিক বাড়ি থেকে প্রতি বাড়িতে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষ্য, এলাকায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা টাকা দিয়ে সংযোগ নিয়েছেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিতাসের কর্মচারী সবুজ হোসেন। তিনি দাবি করেন, অবৈধ সংযোগের কাজের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ঠিকাদার জাহাঙ্গীর নিজস্ব শ্রমিক দিয়ে কাজটি করেছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে তার কথোপকথনের বিষয়ে সবুজ বলেন, ঘটনাস্থলে সাংবাদিকেরা আসার খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার দাবি, তিনি বাড়ির মালিকদের জানিয়েছিলেন যে সংযোগগুলো অবৈধ এবং তিতাস কর্তৃপক্ষ পরে এগুলো বিচ্ছিন্ন করলে তার কিছু করার থাকবে না।
কাজ চলার সময় বাধা না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সবুজ বলেন, স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষ বিষয়টি জানে এবং তিনি একা এ ধরনের কাজে বাধা দিতে পারেন না।
অন্যদিকে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দাবি, পাইপ ও শ্রমিকের খরচ রয়েছে বলেই তিনি টাকা নিয়েছেন।
অবৈধ সংযোগের অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীরের বক্তব্য, তিনি নতুন করে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছেন না; পুরোনো লাইনে লিকেজের কারণে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় বাড়ির মালিকদের অনুরোধে নতুনভাবে পাইপ বসিয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয়রা জানেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হাসান আহম্মদ বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। সুনির্দিষ্টভাবে দাপ্তরিক অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিতাসের কোনো কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


































