কঠোর প্রশাসন ও নিয়মিত অভিযান: রূপগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি
Published : ২১:০৯, ১৯ আগস্ট ২০২৬
মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এ কারণে মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত আইন প্রয়োগ, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং জনসচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গত কয়েক মাসে ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত চার মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে চার শতাধিক মাদক কারবারি ও সেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, ভূমিদখল ও ভেজালের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত চার মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার শতাধিক মাদক কারবারি ও সেবীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও আইন প্রয়োগের ফলে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের প্রকাশ্য বেচাকেনা ও সেবনের অভিযোগ কমেছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের মতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর করতে শুধু অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
স্থানীয়দের আরও ভাষ্য, প্রশাসনের নিয়মিত উপস্থিতি ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বিভিন্ন সমস্যায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতাও স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে তারা জানান।
রূপগঞ্জ ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সরকারকে সহযোগিতা করতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ ঠিক রাখতে আমি বদ্ধপরিকর।”
সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূল একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। নিয়মিত অভিযান, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা—এই চারটি বিষয় সমন্বিতভাবে পরিচালিত হলে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
রূপগঞ্জের সাম্প্রতিক কার্যক্রম তাই শুধু আইন প্রয়োগের একটি উদাহরণ নয়; মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ গড়ে তোলার একটি সম্ভাবনাও তুলে ধরছে।
































