জামায়াত-এনসিপির প্রার্থী প্রস্তুত, বিএনপিতে দৌড়ঝাঁপ
Published : ১৮:৫৬, ২২ আগস্ট ২০২৬
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি, এমনকি ভোটের তারিখও নির্ধারিত হয়নি। তবে এরই মধ্যে মেয়র পদকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য প্রার্থী, দলীয় মনোনয়ন এবং ভোটের মাঠের সমীকরণ নিয়ে সরব হয়ে উঠেছে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন।
সম্ভাব্য নির্বাচনী মাঠে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিন রাজনৈতিক শক্তির তৎপরতা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা করেছে, এনসিপিও সম্ভাব্য প্রার্থী সামনে এনেছে। অন্যদিকে বিএনপিতে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
গত ১১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পেশায় চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন।
সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনুর কাছে পরাজিত হন। মিনু ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর ডা. জাহাঙ্গীর পান ১ লাখ ৩৭০ ভোট।
সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হলেও তিনি নিয়মিত জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
বিএনপিতে আলোচনায় একাধিক নাম
রাসিক নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে নগর রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। বর্তমান রাসিক প্রশাসক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নাম রয়েছে আলোচনার শীর্ষে।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও রাজস্ব আদায়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর কার্যক্রমকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ ছাড়া রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনের নামও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
মাহফুজুর রহমান রিটন জানিয়েছেন, দল মনোনয়ন দিলে তিনি সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করবেন। অন্যদিকে মামুনুর রশিদ মামুনও বলেছেন, দল তাঁকে মূল্যায়ন করলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত।
এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী মোবাশ্বের আলী
রাসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপিও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দলটির রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চে পাঁচটি সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করে এনসিপি। সেখানে রাজশাহীর জন্য মোবাশ্বের আলীর নাম ঘোষণা করা হয়।
মোবাশ্বের আলী বলেন, তফসিল ঘোষণা না হলেও তাঁরা জনসম্পৃক্ততা ও প্রচার-প্রচারণার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জোটগতভাবে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় ইস্যুই হতে পারে নির্বাচনের মূল ফ্যাক্টর
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিটি করপোরেশন নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় বেশি স্থানীয় ইস্যুনির্ভর। সড়ক, যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ, পার্ক, খেলার মাঠ ও নাগরিক সেবার মান ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং নগর উন্নয়নের পরিকল্পনাও নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।
২০২৩ সালের সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন।

































