খয়রাবাদ নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন
Published : ১৭:৪৪, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি ও পশ্চিম বীর নারায়ণ এলাকায় খয়রাবাদ নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নদীতীর সংরক্ষণ, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। দপদপিয়া ইউনিয়ন খয়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধনে স্কুলশিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, নদীভাঙন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। নদীতে ঘরবাড়ি হারানোর পর নতুন করে বসতি গড়লেও ভাঙনের আতঙ্ক থেকে মুক্তি মিলছে না। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে। অথচ তাদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি অভিযোগ করেন, জলবায়ু তহবিলের অর্থের সুফল নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। পাশাপাশি নদীভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও ঘাটতি রয়েছে।
ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণের কথা বলা হলেও বাস্তবে কাজ শুরু হয়নি। আর কত বর্ষায় কত মানুষের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হলে এসব অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নদীভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় ছোট শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় পানিতে ভিজে যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত পোশাক সঙ্গে নিতে হচ্ছে তাদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সড়কের বেহাল দশা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি এলাকার কবরস্থানও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
আগেও উপজেলা প্রশাসনের কাছে একই দাবি জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে ডা. মনীষা বলেন, জেলা প্রশাসনের কাছেও দাবি জানানোর পর কার্যকর ব্যবস্থা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হতে পারেন। সেই আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও ন্যায্যতা থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নদীভাঙন থেকে মানুষ ও তাদের সম্পদ রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং টেকসই সড়ক নির্মাণ করতে হবে। খয়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধের আন্দোলনে বাসদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ১০০ বছর ধরে খয়রাবাদ নদীর ভাঙনে এলাকার বসতভিটা, পৈতৃক সম্পত্তি এবং পূর্বপুরুষদের কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আরও ২০০টির বেশি পরিবার এবং অন্তত এক হাজার মানুষ বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয়দের মতে, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় অন্তত এক কিলোমিটার নদীতীর জরুরি ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও নতুন সড়ক নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়রা জানান, গত ৭ জুন একই দাবিতে নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে মানববন্ধন করে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
কর্মসূচিতে দপদপিয়া ইউনিয়ন খয়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন হাওলাদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফরিদ হাওলাদার, সদস্যসচিব মো. রমজান আকন হৃদয়, যুগ্ম সদস্যসচিব মো. রুবেল হাওলাদারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, খয়রাবাদ নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরও বহু পরিবার বসতভিটা হারাতে পারে। তাই ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

































