কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: সিএনজিচালক গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন তথ্য

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: সিএনজিচালক গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন তথ্য ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:৫৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর বাড়ি ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। কিন্তু রেসকোর্স এলাকার বাসায় আর ফেরা হয়নি তার। পরদিন সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন গন্তব্যের দিকে না গিয়ে অন্য পথে গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন তার বাবাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠায় এবং লাইভ লোকেশন শেয়ার করে। রাত ২টা ৫৮ মিনিটে পাঠানো বার্তায় তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাটি দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন।

পুলিশের ধারণা, অটোরিকশাটি বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে জগতপুরের ধানক্ষেতের দিকে যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ সুপার জানান, তাজমিনের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিক তদন্তে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথমদিকে পুলিশ চালক সুমন একাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে ধারণা করলেও পরে কললিস্ট বিশ্লেষণে অন্যদের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাব্য তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। তবে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়া বাকি।

ঘটনাস্থল থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ। গাড়িটির নিবন্ধন ও মালিকের সূত্র ধরে চালক সুমনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা আবদুল আলীমের একমাত্র মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত সে। সে ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল না।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে যায় এবং সেখান থেকে বাসে কুমিল্লায় ফেরে। মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার সময় থেকে পরিবারের উদ্বেগ এবং তাকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মায়ের বক্তব্যও তদন্তের প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছে। তবে বান্ধবীকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়নি।

মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তাজমিনের মা কেয়া খাতুন ও বাবা আবদুল আলীম। বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের পাঠানো বার্তা ও লাইভ লোকেশন পরে দেখতে পেয়ে তিনি তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা, ঘটনার উদ্দেশ্য এবং তাজমিনের শেষ যাত্রাপথের বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement