নানা পাটেকরের মৃত্যুর পরও ভোগান্তির অভিযোগ তনুশ্রীর, ‘আমার জীবন নরক করে তুলেছিলেন’
Published : ১১:৫৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬
বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর পরও তাকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। অতীতে অভিনেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত দাবি করেছেন, নানা পাটেকরের কারণে বছরের পর বছর দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয়েছে তাকে। এমনকি অভিনেতার মৃত্যুর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য ও আক্রমণের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন তনুশ্রী। তার অভিযোগ, ২০১৮ সালে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পর থেকেই তার জীবন নরকে পরিণত হয়েছে। নিজের নিরাপত্তা নিয়েও বারবার উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়েছে তাকে।
তনুশ্রীর অভিযোগ, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার একটি আইটেম গানের শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকর তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি আবারও সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। এর মধ্য দিয়ে ভারতে ‘মি টু’ আন্দোলন নতুন গতি পায়।
ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তনুশ্রী বলেন, ‘মি টু’ আন্দোলনের আগে তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন শরীরচর্চা করতেন এবং নির্ভয়ে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতেন। কিন্তু অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পর তার জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত বলাও সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।
তনুশ্রীর ভাষ্য, ২০২৪ সালে তার গাড়ির ব্রেক কেটে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় একদল লোক তাকে অনুসরণ করত বলেও অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই নিজের প্রতিক্রিয়া জানাননি তনুশ্রী। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা বুঝে ওঠার পর এ বিষয়ে কথা বলবেন। তবে অভিনেতার মৃত্যুর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে নেতিবাচক মন্তব্য শুরু হওয়ায় এবার মুখ খুলেছেন তিনি।
তনুশ্রীর দাবি, নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর অনেকে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে তার প্রশ্ন, যে ব্যক্তি কখনো ক্ষমা চাননি, তাকে ক্ষমা করার কথা কেন বলা হচ্ছে?
তিনি বলেন, কেউ মারা গেছেন বলেই তার জীবনের সব অন্যায় মুছে যায় না। যাদের তিনি হয়রানি করেছেন বা ভুক্তভোগী করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও কষ্টের হিসাবও কি শেষ হয়ে যায়?
তনুশ্রীর মতে, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে একজন মানুষের অভিজ্ঞতা ভালো হতে পারে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্য কারও ভোগান্তিকে অস্বীকার করা যায় না। নানা পাটেকরের সঙ্গে তার নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের অভিজ্ঞতার চেয়ে আলাদা হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ক্ষমা প্রসঙ্গে তনুশ্রী আরও বলেন, ক্ষমা চাইতে হলে প্রথমে নিজের ভুল স্বীকার করতে হবে। অন্যায় করেছেন, কারও জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন কিংবা দলবদ্ধভাবে কাউকে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছেন—এমন বিষয় স্বীকার করার পরই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন আসে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তনুশ্রী। তার ভাষ্য, তিনি যখন বলেন ‘অশুভের মৃত্যু হয়েছে’, তখন সেটি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলেন। তার অভিযোগ, নানা পাটেকর মৃত্যুর পরও তাকে ভোগাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সমালোচনা করা ইউটিউবার ও অন্যদের উদ্দেশেও কথা বলেন এই অভিনেত্রী। তার অভিযোগ, অনেকে কেবল ভিউ ও লাইক বাড়ানোর জন্য তাকে নিয়ে মন্তব্য করছেন। সমালোচকদের নিজের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
তনুশ্রীর দাবি, ২০১৮ সালের পর তার জীবন এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছিল যে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতার সামান্য অংশই প্রকাশ করতে পেরেছেন। বিশেষ করে ২০২০ সালের পর থেকে প্রতিদিনই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, শুধু নানা পাটেকর নন, তার সঙ্গে থাকা আরও অনেকে তাকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছেন।
নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে নানা পাটেকরকে জীবনের সবচেয়ে বড় ‘অশুভ শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তনুশ্রী। তার ভাষায়, “তিনি আমার জীবন নরক করে তুলেছিলেন।”
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে তনুশ্রী দত্তের অভিযোগের পর নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর করা হয়েছিল। নানা পাটেকর শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। পরে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
‘আশিক বানায়া আপনে’, ‘চকলেট’ ও ‘ঢোল’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া তনুশ্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য পুরোনো অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তার অভিযোগ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনাকে মামলার আইনি সিদ্ধান্ত থেকে আলাদা করে দেখা জরুরি।


































