বিদুষী বর্ণিতার নতুন পথচলা

বিদুষী বর্ণিতার নতুন পথচলা বিদুষী বর্ণিতা

হৃদয় খান

Published : ০০:০৩, ১৬ আগস্ট ২০২৬

মাত্র তিন বছর বয়সেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন বিদুষী বর্ণিতা। এরপর বিজ্ঞাপন, নাটক এবং সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করে পরিচিতি পান। দীর্ঘ বিরতির পর এবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নতুন করে নিজের পরিচয় গড়তে চান এবারের লাক্স সুপারস্টার চ্যাম্পিয়ন বর্ণিতা। প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন তিনি।

শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র ‘নিউলি ম্যারেড’ গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে বর্ণিতাকে। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন তৌসিফ মাহবুব।

নতুন এই অধ্যায় নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত বর্ণিতা। প্রায় দুই মাস রিহার্সেলের পর শুরু হয় শুটিং। ইতোমধ্যে ওয়েব ফিল্মটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তার কাছে এই কাজটি শুধু অভিনয়ের আরেকটি সুযোগ নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের একটি যাত্রা।

শিহাব শাহীন ও তৌসিফ মাহবুবের মতো অভিজ্ঞ শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখছেন বলে জানান বর্ণিতা। বিশেষ করে তৌসিফ মাহবুবের সহযোগিতাকে নিজের জন্য বড় পাওয়া মনে করছেন তিনি।

বর্ণিতা জানান, সংলাপ বলা থেকে শুরু করে চরিত্রের অভিব্যক্তি—বিভিন্ন বিষয়ে তৌসিফ তাকে পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি নিজের অভিনয়ের চেয়েও বর্ণিতার অংশ কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সেদিকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সহশিল্পীর এমন সহযোগিতা তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে বলে জানান বর্ণিতা।

শিশুশিল্পী থেকে লাক্স সুপারস্টার
অভিনয়ে বর্ণিতার পথচলা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০০৯ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে বিজ্ঞাপনে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত অসংখ্য বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকেও কাজ করেছেন। নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত ‘গেরিলা’ সিনেমাতেও শিশুশিল্পী হিসেবে দেখা গেছে তাকে।

তবে টিনএজে এসে নিয়মিত অভিনয়ের জন্য অডিশন দিতে গিয়ে একের পর এক প্রত্যাখ্যাত হতে থাকেন বর্ণিতা। নিজের যোগ্যতার ওপর আস্থা থাকলেও পরিচিত মুখ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তার কারণে অনেকে সুযোগ পাচ্ছেন—এমন বাস্তবতা তাকে হতাশ করেছিল।

সেই ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর অংশ নেন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায়। শেষ পর্যন্ত সেখানেই আসে তার বড় সাফল্য। অর্জন করেন এবারের লাক্স সুপারস্টার চ্যাম্পিয়নের মুকুট।

মা সবচেয়ে কাছের মানুষ
ব্যক্তিজীবনেও খানিকটা আলাদা বর্ণিতা। স্কুল-কলেজে অনেকের সঙ্গে মিশলেও খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু তৈরি হয়নি। তার সবচেয়ে কাছের মানুষ মা।

তবে লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় এসে নতুন কিছু সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ফারিশতা মৌ ও নাযাহ নাওয়ারকে পেয়েছেন তিনি, যারা এখন তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের মধ্যে রয়েছেন।

বই, সিনেমা ও পছন্দের শিল্পীরা
অভিনয়ের বাইরে বই পড়া ও সিনেমা দেখা বর্ণিতার অন্যতম প্রিয় কাজ। তার প্রিয় লেখক ফ্রাঞ্জ কাফকা।

অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী, বিপাশা হায়াত, অপি করিম ও আফসানা মিমিকে পছন্দ করেন তিনি। পুরুষ শিল্পীদের মধ্যে তার পছন্দের তালিকায় রয়েছেন আফরান নিশো ও প্রীতম হাসান।

স্বপ্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে
ভবিষ্যতে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান বর্ণিতা। তবে তার স্বপ্ন শুধু দেশের বিনোদন অঙ্গনে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

ছোটপর্দায় ধীরে ধীরে নিজেকে আরও পরিণত করে গড়ে তুলতে চান তিনি। একই সঙ্গে বড়পর্দাতেও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। এরই মধ্যে নির্মাতা রায়হান রাফীর একটি সিনেমা নিয়ে তার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে বিদুষী বর্ণিতার পথচলাটা যেন নতুন করে শুরু হওয়ার গল্প—মাত্র তিন বছর বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো এক শিশুশিল্পী থেকে লাক্স সুপারস্টার, আর সেখান থেকে এখন কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেত্রী। নতুন এই যাত্রায় নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকের কাছে নতুন পরিচয় তৈরি করাই এখন তার লক্ষ্য।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement