মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের দামে বড় উল্লম্ফন
Published : ১৩:২০, ১০ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলা এবং এর পাল্টা জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কায় এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে মার্কিন হামলার খবর প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.২৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে জাপানের নিক্কেই সূচক ০.৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, নৌপথ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
স্যাক্সো ব্যাংকের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ চারু চানানা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এখনো সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের পূর্ণ ঝুঁকি মূল্যায়ন করেনি। তবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা সংঘাতে আরও বড় শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়লে তেলের দামে নতুন করে বড় উত্থান দেখা যেতে পারে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।


































