সীমান্তে মানবিক সংকটের অভিযোগ, নারী-শিশুসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার দাবি বিএসএফের বিরুদ্ধে

সীমান্তে মানবিক সংকটের অভিযোগ, নারী-শিশুসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার দাবি বিএসএফের বিরুদ্ধে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:৩৩, ৮ জুন ২০২৬

৭ জুন: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)।

রোববার কলকাতায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সহসভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নারী, শিশু ও পরিবারগুলোকে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) তাদের গ্রহণ না করায় অনেকে সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় আটকে পড়ছেন।

এপিডিআর জানায়, আটকে পড়াদের মধ্যে গর্ভবতী নারী, শিশু ও প্রবীণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে।

সংগঠনটির দাবি, একদিকে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি বলে দাবি করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের নাগরিকত্বের পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। ফলে সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থানরত এসব মানুষ কার্যত কোনো রাষ্ট্রের সুরক্ষা পাচ্ছেন না।

এ পরিস্থিতিকে মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে এপিডিআর ভারতের কথিত “থ্রি-ডি” (চিহ্নিতকরণ, বহিষ্কার ও নাগরিক পরিচয় মুছে ফেলা) নীতির সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের নীতি ভারতের সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও সামনে এসেছে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অভিযোগ করেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নওগাঁ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন শূন্যরেখা এলাকায় কয়েক ডজন মানুষ আটকে ছিলেন।

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি আশা করছে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে ঢাকা দ্রুত প্রয়োজনীয় সাড়া দেবে।

এদিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবরও প্রকাশ করেছে। স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী কেবল অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

পরিস্থিতির প্রতিবাদে আগামী ১১ জুন মালদা শহরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এপিডিআর। সংগঠনটির দাবি, সীমান্তে আটকে থাকা সকল মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক মর্যাদা রক্ষাও সমানভাবে জরুরি। এই ভারসাম্য রক্ষা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement