কাতারে টানেল নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি, আঞ্চলিক সংঘাতে প্রকল্প নিয়ে শঙ্কা

কাতারে টানেল নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি, আঞ্চলিক সংঘাতে প্রকল্প নিয়ে শঙ্কা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:২১, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কাতারে টানেল নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করতে দেশটির শিল্পগোষ্ঠী আমাল কোম্পানির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত নির্মাণপ্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে টানেল গ্রুপ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় সাম্প্রতিক অবকাঠামো চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যেও কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দোহাভিত্তিক আমাল কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানায়, কাতার ও বৃহত্তর অঞ্চলে টানেল নির্মাণ প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে দুই প্রতিষ্ঠান কৌশলগত সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে।

চায়না রেলওয়ে টানেল গ্রুপ পাহাড়ের ভেতর দিয়ে, পানির নিচে এবং নগর এলাকার গণপরিবহন নেটওয়ার্কের জন্য টানেল নির্মাণে বিশেষজ্ঞ। আমাল কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড পাইপস অ্যান্ড কাস্টস কোম্পানি কাতার ও আশপাশের দেশগুলোর অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য পাইপব্যবস্থা এবং প্রাক্‌-নির্মিত কংক্রিট পণ্য উৎপাদন করে।

কাতার ও প্রতিবেশী সৌদি আরব ৭৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণ করছে। এটি কাতারের রাজধানী দোহাকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের সঙ্গে যুক্ত করবে। একই সঙ্গে দুই শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রেলপথটির আওতায় সংযুক্ত হবে। ছয় বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও আন্তসীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানো এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এ ছাড়া কাতার উপসাগরীয় রেলপথ প্রকল্পেও অংশ নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশকে যুক্ত করার লক্ষ্যে ২ হাজার ১৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেলপথ ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা।

হংকং এডুকেশন ইউনিভার্সিটির সামাজিক বিজ্ঞান ও নীতিগবেষণা বিভাগের প্রধান নওবাহার শরিফের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতির বহুমুখীকরণের যে চেষ্টা করছে, এ ধরনের অবকাঠামো উদ্যোগ তারই অংশ।

তবে আঞ্চলিক সংঘাত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কয়েকজন বিশ্লেষক। সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস–ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং সিনিয়র ফেলো জয়ন্ত মেনন বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অক্টোবরে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার কারণে চীনা ঠিকাদাররা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রকল্পগুলোর কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারেন।

মেননের মতে, রিয়াদের বিমানবন্দরকে যুক্ত করে এমন প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখা হতে পারে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির গতিকে প্রভাবিত করবে। তবে ঠিকাদাররা শুধু ২০২৬ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেবেন না; আগামী কয়েক বছর বা কয়েক দশকে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা কেমন থাকবে, সেটিও তাঁদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

চীনের রেলওয়ে কোম্পানিগুলো চলতি বছর মঙ্গোলিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রকল্পের কাজ পেয়েছে। ব্রাজিলে চীনের একটি যৌথ কনসোর্টিয়াম কেবল দিয়ে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করছে। অন্যদিকে কেনিয়ায় চীনের একটি নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান দুর্গম উপত্যকার ওপর ৮৮০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করছে।

এসব প্রকল্প চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে অবকাঠামোগত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা।

নওবাহার শরিফের মতে, চায়না রেলওয়ে টানেল গ্রুপ ও আমাল কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠানের চুক্তি চীন ও কাতার সরকারের মধ্যে সদ্ভাব তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা জোরদার করতেও সহায়তা করতে পারে। তাঁর ভাষায়, প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রায়ত্ত হওয়ায় বিষয়টি শুধু বাণিজ্যিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement