ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প-শি’র সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব পুতিনের
Published : ১৩:৪৩, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চীনের শেনঝেন শহরে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপিইসি) সম্মেলনের ফাঁকে এ বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)।
ডব্লিউএসজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে পুতিন এই প্রস্তাব দেন। ওই কথোপকথনে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল-সংক্রান্ত একটি চুক্তির বিষয়ও চূড়ান্ত করেন ট্রাম্প বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রেমলিনও সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে বৈঠকটি আদৌ হবে কি না কিংবা সেখানে কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। ডব্লিউএসজেকে তিনি বলেন, তিন পক্ষই এমন বৈঠকের তাত্ত্বিক সম্ভাবনা স্বীকার করেছে।
ডব্লিউএসজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশায় পুতিন ইউক্রেনকে তাঁর কঠোর শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করার কৌশল নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে জেলেনস্কির অনীহার বিষয়টি এ অবস্থানের অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার শর্ত মেনে নেওয়ার চাপ সৃষ্টি, রাশিয়ার ওপর জ্বালানি শুল্ক স্থগিত, ডিজেল চুক্তির মাধ্যমে মস্কোর সম্ভাব্য বিপুল মুনাফার সুযোগ তৈরি এবং ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা বাতিলের মতো পদক্ষেপের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে জেলেনস্কি ও তাঁর ইউরোপীয় মিত্রদের বক্তব্য, ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো চুক্তি হলে তা কার্যকর বা অর্থবহ হবে না।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প ও পুতিনের সমঝোতার চেষ্টা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বলয় প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এ ধারণা অনুযায়ী, পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়বে, আর পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব জোরদার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রাশিয়াপন্থী অবস্থান রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের ক্ষোভ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প জেলেনস্কিকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানালেও, এর বিনিময়ে পুতিন রুশ হামলা বন্ধ করবেন—এমন কোনো প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে শীতকাল ঘনিয়ে আসার আগে ইউক্রেনজুড়ে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। বেসামরিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু। ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসায় হামলা মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালানো পুতিনের কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে ইউক্রেনীয়দের মনোবল দুর্বল করা এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জেলেনস্কিকে রাশিয়ার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করাই এর উদ্দেশ্য।
সূত্র: এএফপি, ফার্স্টপোস্ট


































