বোয়ালমারীতে বিএনপির ৯ ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা, এক ঘণ্টার মধ্যে স্থগিত

বোয়ালমারীতে বিএনপির ৯ ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা, এক ঘণ্টার মধ্যে স্থগিত ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুর প্রতিনিধি

Published : ১৮:৪০, ১৮ আগস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিএনপির নয়টি ইউনিয়নের ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি এক ঘণ্টার মধ্যেই স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহার স্বাক্ষরে কমিটিগুলো ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার পরপরই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। পরে রাতেই কমিটিগুলো স্থগিত করা হয়।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গুণবহা ইউনিয়নের সম্মেলন স্থগিত থাকায় বাকি নয়টি ইউনিয়নে ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এসব কমিটিতে আহ্বায়ক ছাড়া কোনো যুগ্ম আহ্বায়ক বা সদস্যসচিব রাখা হয়নি। অন্যদের শুধু সদস্য হিসেবে রাখা হয়।

দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কয়েকটি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা নন—এমন ব্যক্তিদের আহ্বায়ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েকজন নেতাকেও ইউনিয়ন পর্যায়ের আহ্বায়ক করা হয়েছে। এতে দলের সাংগঠনিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ঘোষিত তালিকায় পরমেশ্বরদী ও দাদপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহাকে আহ্বায়ক করা হয়। শেখর ইউনিয়নে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইকবাল ঠাকুর পিন্টু, চতুল ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুজ্জামান শাহিন, ঘোষপুরে নজরুল ইসলাম, ময়নায় পৌর বিএনপির সহসভাপতি খান আতাউর রহমান, সাতৈরে কৃষকদলের সভাপতি লুৎফর রহমান, সদর ইউনিয়নে যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম সম্রাট এবং রূপাপাতে আকরাম হোসেন মিয়াকে আহ্বায়ক করা হয়।

এ নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বাদ দিয়ে উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ইউনিয়ন কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই ব্যক্তির একাধিক সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনাজুর রহমান লিপন অভিযোগ করে বলেন, নয়টি ইউনিয়নের কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কাউকে আহ্বায়ক করা হয়নি এবং কোনো কমিটিতে সদস্যসচিব রাখা হয়নি। তাঁর দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সাবেক ছাত্রদল নেতা সাহাবুদ্দিন আহমেদ নিউটন মিয়াসহ দলের আরও কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটিগুলোর সমালোচনা করেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক বোরহান উদ্দিন খান সৈকত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি করেন। মহিলা দল নেত্রী মুন্নি রহমান ও যুবদল নেতা মো. সামিউল হকও ঘোষিত কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা বলেন, এটি মূলত আহ্বায়ক কমিটি নয়, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি হওয়ার কথা ছিল। ভুলক্রমে ‘আহ্বায়ক কমিটি’ লেখা হয়েছে। গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে কাউন্সিল আয়োজনের জন্য উপজেলা কমিটির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভুলটি ধরা পড়ার পর কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, অনিবার্য কারণে ঘোষিত কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কমিটি স্থগিতের পর এখন নতুন করে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement