বিশ্বকাপে মেসিকে লক্ষ্য করে একাধিক বোমা হামলার হুমকি
Published : ১৪:৫৬, ৮ আগস্ট ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে একাধিক বোমা হামলা ও সশস্ত্র হামলার হুমকি পেয়েছিল নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। ফাঁস হওয়া একটি পুলিশি নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে স্পেনের সংবাদমাধ্যম ইনফরমাসিওন। তবে এসব হুমকি বাস্তব কোনো হামলার পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের নথিতে বিশ্বকাপ চলাকালে পাওয়া বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি হুমকি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মেসিও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, তিনি আরও দুজনের সঙ্গে ঘরে তৈরি বোমা ও একটি এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ওই ব্যক্তি বিশেষভাবে মেসির নামও উল্লেখ করেন।
এরপর আর্জেন্টিনা ও মিশরের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগেও মেসিকে ঘিরে বোমা হামলার হুমকি আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি শরীরে বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশের হুমকি দেন।
ম্যাচ চলাকালে আরেক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে স্টেডিয়ামের ময়লার ঝুড়িতে তিনটি বোমা রেখে আসার দাবি করেন। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। তবে কোনো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি এবং ম্যাচেও কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটির ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েও ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় ফ্রান্সে থাকা তাঁর পরিবারের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়।
শুধু মেসি নন, বিশ্বকাপে আরেক সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। রোনালদোর হোটেল ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। অন্য একটি ঘটনায় রোনালদোর সঙ্গে একই লিফটে ওঠার চেষ্টা করা এক সমর্থককেও আটক করা হয়।
বিশ্বকাপ শেষে এফবিআই জানায়, টুর্নামেন্ট চলাকালে তারা ভুয়া জরুরি ফোন, বোমা হামলার হুমকি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক তথ্যের বিষয়ে তদন্ত করেছে। তবে পুরো টুর্নামেন্টে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা ঘটনা ঘটেনি।

































