ছাত্রত্ব হারিয়েও রাবির হলে অবস্থান, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
Published : ১৮:১৬, ১১ আগস্ট ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নিশাতের বিরুদ্ধে ছাত্রত্ব হারানোর পরও হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। ড্রপআউট হয়ে ছাত্রত্ব হারানোয় তাঁর হলের আসন বাতিল করে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি মতিহার হলের ২৩২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
আবদুল্লাহ আল নিশাত বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিএসসি (অনার্স) পার্ট-২ পরীক্ষায় পরপর দুইবার অকৃতকার্য হন তিনি। পরের বছর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও এরপর আবারও অকৃতকার্য হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তিনি ড্রপআউট হন এবং ছাত্রত্ব হারান।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, নিশাত ড্রপআউট হয়ে ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। বিশেষ বিবেচনায় ছাত্রত্ব ফিরে পেতে তিনি একাডেমিক কাউন্সিলে আবেদন করেছেন বলে তিনি জেনেছেন। তবে তাঁর আবেদন মঞ্জুর হয়নি। আবারও আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিশাত।
হল ছাড়ার নির্দেশ
হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই নিশাতকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হলে তাঁর ভর্তির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁকে ড্রপআউট হিসেবে বিবেচনা করে হলের আসন বাতিল করা হয়।
আদেশে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে হলের সব বকেয়া পরিশোধ করে তাঁকে হল ছাড়তে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও নিশাত হলে অবস্থান করছেন।
যা বলছেন নিশাত
হলে অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন আবদুল্লাহ আল নিশাত। তিনি বলেন, ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং প্রাধ্যক্ষের কাছে কিছুদিন সময় নিয়ে হলে অবস্থান করছেন। নতুন করে আসন বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত থাকার সুযোগ থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
নিশাতের ভাষ্য, ছাত্রত্ব ফিরে পেলে থাকার বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে না। আর ছাত্রত্ব ফিরে না পেলে তাঁকে হল ছেড়ে যেতে হবে। তাঁর দাবি, বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে হলে থাকা বা হল দখল করে রাখার মতো নয়।
প্রাধ্যক্ষের বক্তব্য
মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম সরকার বলেন, ছাত্রত্বের কোনো তথ্য না পাওয়ায় নিশাতের আসন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হলে অবস্থান করছেন—এ তথ্য তাঁর জানা ছিল না।
প্রাধ্যক্ষ আরও বলেন, নিশাত ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে একাডেমিক কাউন্সিল তাঁর আবেদন গ্রহণ করেছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। নিশাতের ছাত্রত্ব ফিরে না এলে ওই আসন অন্য শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া
































