লোডশেডিংয়ের সঙ্গে ৬–৮ গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল, খাগড়াছড়িতে চরম ভোগান্তি
Published : ১২:১৫, ১৭ আগস্ট ২০২৬
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল আসায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খাগড়াছড়ির হাজার হাজার গ্রাহক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় একই থাকলেও ডিজিটাল মিটারে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল দেখানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সংকটে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি বিলের চাপেও বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকেরা।
খাগড়াছড়ি বাজারের ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে এনালগ মিটার থাকায় মাসে বিদ্যুৎ বিল ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে থাকত। ডিজিটাল মিটার চালুর পর সেই বিল বেড়ে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আসছে। প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করার পরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগে এক হাজার টাকা রিচার্জ করলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এক হাজার টাকা রিচার্জ করার পর মাত্র ১৫ দিনেই মিটারের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাদের।
অন্যদিকে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় পূর্বঘোষণা ছাড়াই দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে প্রতি শনিবার গাছপালার ডালপালা কাটার কাজের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী পার্থ দাশ বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে নিয়মিত ক্লাস করতেও সমস্যা হচ্ছে। রাতে পড়তে বসলে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ক্লাসের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, খাগড়াছড়িতে চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটি বা তারের ওপর পড়ায় অনেক সময় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) বিতরণ বিভাগ খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী কুন্তল সরকার জানান, জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি রাঙ্গামাটির সাজেক ও লংগদু এলাকাতেও খাগড়াছড়ি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকায় গাছের ডালপালা ভেঙে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা লাইনের ওপর পড়ায় অনেক সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া জনবল সংকট থাকায় দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জাতীয় গ্রিড থেকে জেলার চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এ কারণেও বারবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হলে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



































