অল্প’ টাকায় ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ দিতেন পর্নোগ্রাফি বিক্রেতা সুমাইয়া
Published : ২৩:৩৯, ১৯ আগস্ট ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে করা মামলায় ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই ঘটনায় তার কথিত প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ মামলায় সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও আসামি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, মেয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও তিনি তার উপার্জনে সম্মতি দিয়েছেন এবং সেখান থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন।
ডিবি সূত্র জানায়, গত ১০ আগস্ট সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেগুলো বিক্রির বিজ্ঞাপন পুলিশের নজরে আসে। অভিযোগ রয়েছে, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এসব কনটেন্ট সরবরাহ করা হতো। এমনকি ৩ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ দেওয়ার বিজ্ঞাপনও পাওয়া যায়।
পরে প্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্টদের অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ডিবি। সেখান থেকে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, সুমাইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে যোগসাজশে একটি চক্র পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি। একই সঙ্গে সুমাইয়ার বাবা মেয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং ওই কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া অর্থ গ্রহণ করতেন—এমন অভিযোগও তদন্তে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় মামলা করা হয়েছে। চক্রটির কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে গ্রেপ্তার দুজনের তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।


































