১৯৯৯ সালের পর পশ্চিম ইউরোপে আজ দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ
Published : ১৩:৫০, ১২ আগস্ট ২০২৬
পশ্চিম ইউরোপের আকাশে আজ বুধবার দেখা যাবে বছরের অন্যতম আলোচিত মহাজাগতিক দৃশ্য—পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এমন বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
এবার চাঁদের প্রচ্ছায়ার পথ উত্তর সাইবেরিয়া, আর্কটিক মহাসাগর ও পূর্ব গ্রিনল্যান্ড পেরিয়ে পশ্চিম আইসল্যান্ড এবং উত্তর স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এরপর উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের একটি ছোট অংশ ছুঁয়ে স্পেনের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ও বালেয়রিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের সঙ্গে শেষ হবে গ্রহণের পথ।
আইসল্যান্ডে সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যাবে
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সবচেয়ে দীর্ঘ স্থায়িত্ব হবে আইসল্যান্ডের পশ্চিমে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে আইসল্যান্ডের রাজধানী রিকজাভিক থেকে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ স্পষ্টভাবে দেখা যাওয়ার কথা। এ সময় গ্রিনিচ মান সময় হবে বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিট।
অন্যদিকে স্পেনের উত্তরের আ করুনিয়া ও বিলবাওসহ কয়েকটি এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে। উত্তর-পশ্চিম স্পেনে স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টা ২৮ মিনিটে এ দৃশ্য দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাসহ ইউরোপের বেশির ভাগ অঞ্চলের মানুষ পূর্ণগ্রাস নয়, আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন।
কীভাবে হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ?
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে। এ সময় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে।
চাঁদের ছায়ার সবচেয়ে ঘন ও অন্ধকার কেন্দ্রীয় অংশকে বলা হয় প্রচ্ছায়া। পৃথিবীর যে অঞ্চলের ওপর এই প্রচ্ছায়া পড়ে, সেখান থেকেই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।
চাঁদ যখন সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে ফেলে, তখন সেটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। আর চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে না পারলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল আলোর বলয় দেখা যায়, যাকে বলা হয় বলয়গ্রাস বা অ্যানুলার সূর্যগ্রহণ।
কেন কখনো পূর্ণগ্রাস, কখনো বলয়গ্রাস?
পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব সবসময় একই থাকে না। চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়; এটি উপবৃত্তাকার। ফলে কখনো চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলক কাছে থাকে এবং কখনো কিছুটা দূরে থাকে।
চাঁদ যখন পৃথিবীর কাছে থাকে, তখন আকাশে তাকে তুলনামূলক বড় দেখায়। এ অবস্থায় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে। তখনই সৃষ্টি হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
পূর্ণগ্রাসের সময় কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো অনেকটা কমে গিয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে। আবহাওয়া ও পর্যবেক্ষণের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনাও দেখা যায়।
ইউরোপের বড় অংশে দেখা যাবে আংশিক গ্রহণ
পূর্ণগ্রাসের সরু পথ বা ‘পাথ অব টোটালিটি’-এর বাইরে উত্তর গোলার্ধের বিশাল এলাকা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালিসহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশের মানুষ সূর্যাস্তের আগে আংশিক গ্রহণ দেখতে পারবেন। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকাতেও গভীর আংশিক সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হবে।
উত্তর আমেরিকার কানাডার উত্তর ও পূর্বাঞ্চল, আলাস্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য থেকেও আংশিক গ্রহণ দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে।
খালি চোখে দেখা যাবে না
সূর্যগ্রহণ দেখার সময় চোখের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। সাধারণ সানগ্লাস দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা নিরাপদ নয়।
সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই গ্রহণ পর্যবেক্ষণের সময় অবশ্যই অনুমোদিত সোলার গ্লাস বা বিশেষ সৌর চশমা ব্যবহার করতে হবে।
পরবর্তী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কোথায়?
এ শতকের পরবর্তী উল্লেখযোগ্য পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণগুলোর মধ্যে—
- ২০২৮: অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড
- ২০৩০: দক্ষিণ আফ্রিকা
- ২০৩৫: জাপান
অর্থাৎ আজকের গ্রহণ পশ্চিম ইউরোপের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আগামী বছরগুলোতেও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ থাকবে।
































