ট্রাম্পকে নিরাপদে সরাতে ‘ফাঁকি’ কৌশল

ট্রাম্পকে নিরাপদে সরাতে ‘ফাঁকি’ কৌশল ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:৫৮, ১২ আগস্ট ২০২৬

ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিরাপদে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নিতে নজিরবিহীন এক গোপন কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। প্রকাশ্যে পুরোনো ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এ ওঠার পর গোপনে ক্যাটারিং কনটেইনারের আড়ালে বের করে এনে তাঁকে সামরিক উড়োজাহাজে তোলা হয়।

গত ৮ জুলাই তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনে ঘটনাটি ঘটে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের সামনে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানের সিঁড়ি দিয়ে উঠে দরজায় দাঁড়িয়ে হাত নাড়েন। এরপর তিনি উড়োজাহাজটির ভেতরে চলে যান। তবে পরে গোপনে তাঁকে একটি ক্যাটারিং কনটেইনারের মাধ্যমে বের করে আনা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এরপর ট্রাম্পকে একটি সামরিক বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজে তোলা হয়। ‘সি-৩২এ’ মডেলের ওই উড়োজাহাজটি পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানের পাশেই রানওয়েতে অবস্থান করছিল। ট্রাম্পকে নিয়ে সেটি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কে অবস্থানের সময় মার্কিন গোয়েন্দারা ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ওপর হামলার ‘বিশ্বাসযোগ্য’ হুমকির তথ্য পায়। এমনকি ট্রাম্প কোথায় অবস্থান করছেন, ইরানিরা তা জানে এবং ন্যাটো সম্মেলনস্থলের কাছে কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ একজনকে দেখা গেছে—এমন তথ্যও গোয়েন্দাদের কাছে আসে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার সময়ও বিভ্রান্তিমূলক কৌশল তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা সবাই যে এই পরিকল্পনার কথা জানতেন, তা স্পষ্ট নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুমকির বিষয়টি জানতেন এবং ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় সহায়তা করার পর পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই ভ্রমণ করেন বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প নিজেও পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্য, গোপনে অন্য উড়োজাহাজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনী নিরাপত্তার স্বার্থে যে নির্দেশ দিয়েছিল, তিনি সেটিই অনুসরণ করেছেন।

যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পরও পরিকল্পনাটি অব্যাহত ছিল। ট্রাম্পকে সামরিক উড়োজাহাজ থেকে গাড়িতে করে আবার পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে নেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের সামনে স্বাভাবিকভাবে তাঁকে ওই উড়োজাহাজ থেকে নামতে দেখা যায়।

ঘটনার পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে—ট্রাম্পকে রক্ষা করতে নেওয়া এই কৌশল কার্যকর হলেও তাঁর সঙ্গে থাকা সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছিল কি না। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে বহনকারী কোনো উড়োজাহাজেই হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement