সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য প্রকাশের সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রের

সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য প্রকাশের সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রের ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:৫২, ১২ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়াতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি অনুযায়ী বাজেটের নথিপত্র প্রস্তুত এবং দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান—মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)—কে আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীনতা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে দেশটি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

আর্থিক স্বচ্ছতায় অগ্রগতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে বছরের শেষের হিসাব বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করে আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

আগের সরকারের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের নির্বাহী বাজেট প্রস্তাব ও অনুমোদিত বাজেট অনলাইনে প্রকাশ করেছে। যদিও বাজেট প্রণয়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি, তবু সামগ্রিকভাবে বাজেটের তথ্য নির্ভরযোগ্য ছিল।

এ ছাড়া সরকারের ঋণের বাধ্যবাধকতাসংক্রান্ত তথ্যও জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য ছিল। বাজেটের নথিপত্রে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে পাওয়া রাজস্বসহ সরকারের পরিকল্পিত আয় ও ব্যয়ের মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া গেছে।

যেসব ঘাটতি চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কিছু ঘাটতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সরকারের নির্বাহী কার্যালয়গুলোর পরিচালন ব্যয়ের আলাদা হিসাব বাজেটে ছিল না। একই সঙ্গে বাজেট থেকে সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানও স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সরকারি হিসাব পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত ই-জিপি ব্যবস্থা চালু থাকলেও এতে প্রবেশাধিকার ও তথ্যের সহজলভ্যতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

যেসব সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রের

আর্থিক খাতে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির মৌলিক তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা;
  • প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চুক্তিসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা;
  • অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে প্রকৃত আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখা;
  • বাজেটের নথিপত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি অনুযায়ী প্রস্তুত করা;
  • প্রধান নিরীক্ষা কার্যালয়কে পর্যাপ্ত অর্থ ও প্রয়োজনীয় স্বায়ত্তশাসন দেওয়া;
  • সিএজিকে পুরো বছরের বাজেট সময়মতো ও সরাসরি নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা;
  • সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত ই-জিপি ব্যবস্থায় তথ্যের প্রবেশাধিকার আরও সহজ করা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও বাড়তে পারে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement