ইরানি হামলার আশঙ্কায় গোপনে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প
Published : ১১:৫৬, ১১ আগস্ট ২০২৬
ইরানের পক্ষ থেকে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে—এমন সম্ভাব্য হুমকির পর গত মাসে গোপনে তুরস্ক ছেড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত এয়ারফোর্স ওয়ানের পরিবর্তে ছোট একটি উড়োজাহাজে করে তুরস্ক ছাড়েন তিনি।
সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত ৮ জুলাই আঙ্কারায় ট্রাম্প প্রথমে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন।
পরে উড়োজাহাজটির পাশে থাকা একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে তাঁকে ছোট আকারের সি-৩২এ উড়োজাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই উড়োজাহাজেই ট্রাম্প যুক্তরাজ্যে পৌঁছান।
সে সময় সংবাদমাধ্যম ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ট্রাম্প এখনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই রয়েছেন।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হুমকির কারণেই ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেননি।
ওই উড়োজাহাজেই তিনি তুরস্কে গিয়েছিলেন।
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে গত মাসে আঙ্কারায় যান ট্রাম্প।
তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ফেরার সময় পুরোনো বোয়িং ৭৪৭ এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন, যাতে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক সদস্যরা নতুন উড়োজাহাজটি ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
তবে নিউইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে আসা হুমকির কারণেই ট্রাম্পের উড়োজাহাজ পরিবর্তন করা হয়েছিল।
আঙ্কারা থেকে উড্ডয়নের সময় পুরোনো উড়োজাহাজে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল।
সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকায় এ ধরনের সতর্কতা অনুসরণ করা হয়।
ফলে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি আরও জোরালো হয়।
এদিকে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের ঘটনায় কাতারের উপহার দেওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো নতুন উড়োজাহাজটিতে একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই।
এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থাও রয়েছে।
১৯৯০ সাল থেকে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী দুটি পুরোনো বোয়িং ৭৪৭-এর অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন।
পরে গত বছর কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া একটি বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ দ্রুত সংস্কার করে সেটিকে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন তিনি।
গত ১ জুলাই প্রথমবারের মতো উড়োজাহাজটি ট্রাম্পকে নিয়ে নর্থ ডাকোটায় যায়।
কয়েক দিন পর এটিতে করেই প্রথম বিদেশ সফরে তুরস্কে যান তিনি।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন সম্পর্কে এএফপির প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউস নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ, যাতে উচ্চমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে।
এটি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তাঁর দিকে নজর রেখে চলেছে।
এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় আমরা ব্যবহার করছি।’
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার কয়েক মিনিট পর সেটির নিচ থেকে একটি ক্যাটারিং ট্রাক বেরিয়ে যায়।
এরপর ট্রাকটিকে দূরে থাকা ছোট সি-৩২এ উড়োজাহাজের দিকে যেতে দেখা যায়।
দুটি উড়োজাহাজই যুক্তরাজ্যে অবতরণের পর ট্রাম্পকে বড় উড়োজাহাজটির সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখা যায়।
এরপর তিনি নতুন করে সংস্কার ও নিরাপত্তা-উন্নয়ন করা এয়ারফোর্স ওয়ানের দিকে যান।
তবে কীভাবে ট্রাম্প আবার বড় উড়োজাহাজটিতে ফিরে এসেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
































