ইসরায়েলের সঙ্গে আবার কনস্যুলার সেবা চালু করছে ভেনেজুয়েলা
Published : ১২:৩০, ১২ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ইসরায়েল ও ভেনেজুয়েলা আবারও একে অপরের দেশে কনস্যুলার সেবা চালু করতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুই দেশের সরকার এ ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের এই উদ্যোগ ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০০৯ সালে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল ভেনেজুয়েলা। এরপর দীর্ঘ সময় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। গত জানুয়ারিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। এর মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে কনস্যুলার যোগাযোগ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
ভূমিকম্পের পর শুরু হয় যোগাযোগ
বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, জুনে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর ইসরায়েলের মানবিক সহায়তাবিষয়ক একটি প্রতিনিধিদল ভেনেজুয়েলা সফর করে।
ওই সফরের পর দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। ধারাবাহিক আলোচনার মধ্য দিয়েই দুই দেশে কনস্যুলার সেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে সমঝোতা হয়।
ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই সরকারই ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলায় বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যকার সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করেছে। দেশটির ইহুদি সম্প্রদায় দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক সেতুবন্ধ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভেনেজুয়েলার
ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কও রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ ভেনেজুয়েলা দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। একইভাবে ইরানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকায় দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কারাকাসে হস্তক্ষেপেরও নিন্দা জানিয়েছে তেহরান।
ইসরায়েলের সঙ্গে কনস্যুলার সেবা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত তাই ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দুই দেশের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।
































