নারীর প্রলোভনে ডেকে নিয়ে বন্ধুকে হত্যা, তিন বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন
Published : ০৯:৫৩, ২০ আগস্ট ২০২৬
শেরপুরের নকলায় নারীর প্রলোভনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ভ্যানচালক আ. মন্নাছকে হত্যার ঘটনায় প্রায় তিন বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় তাঁর তিন বন্ধু মোস্তাকিন, স্বপন ও শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে জেলা শহরের পুরাতন গরুহাটি এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নকলার পাঠাকাটা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আ. মন্নাছকে নারীর প্রলোভনে ডেকে নিয়ে যায় তাঁর তিন বন্ধু। পরে রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঘমারী বিলের কাছে নিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ বিলের কাদা ও কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে ভ্যানটি নিয়ে চলে যায় তারা।
পরে ভ্যানটির ব্যাটারি ১৪ হাজার টাকা এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে তিনজন টাকা ভাগ করে নেয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় মন্নাছের স্ত্রী আছমা আক্তার বাদী হয়ে নকলা থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা হয়। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, মামলাটি তদন্তের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও মামলার নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাদের শনাক্ত করা হয়।
মামলার বাদী আছমা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন পর স্বামীর হত্যাকারীদের দেখতে পেয়ে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। স্বামীকে নিরীহ মানুষ উল্লেখ করে তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে ছোট সন্তানের পড়াশোনা ও সংসার চালাতে সরকারের সহযোগিতাও চান তিনি।
পিবিআই জানায়, মামলার তদন্ত প্রথমে এসআই রফিকুল ইসলাম শুরু করলেও বদলিজনিত কারণে পরে এসআই জাহাঙ্গীর আলম তদন্তের দায়িত্ব নেন। তাঁর নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

































