কুমিল্লায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে
Published : ১০:২৯, ১ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লার লালমাই উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল, ব্যানার-পোস্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলীয় নেতারা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের বিএনপি সমর্থিত নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে ওই বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাগমারা বাইপাস এলাকা থেকে শুরু হয়ে বাগমারা দক্ষিণ বাজারে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ওঠে। সেখানে টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে মিছিল থেকে কয়েকজন যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রের দাবি, কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। একটি বড় টেবিলসহ তিন শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু বলেন, দাপ্তরিক কাজে তিনি গত দুই দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে কার্যালয়ে হামলার বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
তিনি দাবি করেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম, ইকবাল হোসেন মজুমদার, যুবদল নেতা মানিক হোসেন ও সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে কিছু লোক কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। তাঁর দাবি, ভাঙচুরের সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউছুফ আলী মীর আরও বলেন, কার্যালয়ের চেয়ার ও কিছু ব্যানার-পোস্টার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটারসহ ১৬টি বৈদ্যুতিক পাখা নষ্ট করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপি কার্যালয়ের শাটারের তালা ভেঙে কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করে কিছু চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিবৃত্ত করে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া-সমর্থিত বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। রাত ১০টার দিকে লালমাই বাজার এলাকার একটি খাবার হোটেলে হেলমেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদেই বুধবার বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়েছিল।



































